জ্বলছে বাড়ি, প্রাণ হাতে দৌড়াচ্ছেন পরিজনরা! সিলেটে হিন্দু শিক্ষকের ওপর নৃশংস হামলা, আতঙ্ক চরমে

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ধারা অব্যাহত। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় এবার নিশানায় সিলেটের অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রবীণ শিক্ষক বীরেন্দ্র কুমার দে, যিনি এলাকায় ‘ঝানু স্যর’ নামেই সমধিক পরিচিত। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাহোর গ্রামের এই জনপ্রিয় শিক্ষকের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। অল্পের জন্য গোটা পরিবার প্রাণে বাঁচলেও সর্বস্ব হারিয়ে এখন তাঁরা দিশেহারা।

দাউদাউ আগুনে জ্বলল স্বপ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঝানু স্যরের বসতবাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। জ্বলন্ত সেই বাড়ি থেকে কোনোমতে জীবন হাতে নিয়ে চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা একজন নির্ভেজাল শিক্ষকের ওপর এমন ধর্মবিদ্বেষী হামলা হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না স্থানীয়রা। বীরেন্দ্র কুমারের পরিবার তদন্তের দাবি জানালেও বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে সুবিচার পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান।

রক্তাক্ত পরিসংখ্যান: ২০২৪-এ ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামক এক যুবককে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার পর থেকে এই হিংসার আগুন থামছেই না। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত ৮-৯ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে।

১২ জানুয়ারি: ফেনিতে ২৮ বছরের সমীরকুমার দাসকে খুন করা হয়।

১০ জানুয়ারি: সিলেটে আরও এক হিন্দু যুবককে প্রাণ হারাত হয়।

৫ জানুয়ারি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুই জন হিন্দু ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

একের পর এক এই ধরণের ঘটনায় ওপার বাংলার হিন্দুদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।