বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা আসছেন ভারতে, ভোটের আগে ডোভালের সঙ্গে হবে মিটিং

শেখ হাসিনার ক্ষমতার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে মসৃণ নয়। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর দিল্লিতে আসছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) খলিলুর রহমান। যদিও দুই দেশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না জানানো হলেও, দিল্লিতে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে।

আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধিত্ব করবেন খলিলুর রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে ইউনূস সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আবেদন ভারতের কাছে জানাতে পারে।

🔴 কেন সম্পর্ক মসৃণ নয়?

 

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে:

  • সংখ্যালঘু নির্যাতন: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ বেড়েছে।

  • ভারত-বিরোধী স্লোগান: জেহাদিরা প্রকাশ্যে রাস্তায় মিছিল করে ভারত বিরোধী স্লোগান দিলেও ইউনূস সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।

  • ইউনূসের মন্তব্য: ইউনূস নিজে একাধিকবার ভারত বিরোধী মন্তব্য করেছেন, এমনকি ভারতে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার দেওয়া বিবৃতি নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

  • চিন সফর: চিনে গিয়েও তিনি ভারতকে নিয়ে কুকথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে ভারত একাধিকবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

🤝 ডোভাল-খলিলুর বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে?

 

যদিও বৈঠকের এজেন্ডা গোপন রাখা হয়েছে, তবে দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে:

  • সীমান্ত সমস্যা: দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে সমস্যা এবং SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর আবহে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনেকের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ।

  • সন্ত্রাস দমন: বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি কার্যকলাপ এবং দুই দেশের আঞ্চলিক সহযোগিতা।

  • নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা: ভারতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারতের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হতে পারে।

কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভে বাংলাদেশ ছাড়াও মালদ্বীপ, মরিশাস ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। কনক্লেভে সমুদ্র, সীমান্ত, এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে সবার নজর থাকবে ডোভাল-খলিলুর বৈঠক হয় কিনা তার দিকেই।