‘পুরোটাই মুসলিম ভোটার’! হিন্দু গ্রামে একের পর এক ভুয়ো নাম, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিশানায় তৃণমূল

এসআইআর (Summary Revision of Electoral Rolls) বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় একের পর এক ভুয়ো ভোটারের নাম ধরা পড়ল। বাঁকুড়ার এই ভোটার-কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেই দুষেছে।
বাঁকুড়ার শ্যামপুরে ভুয়ো ভোটারের দাবি
বাঁকুড়ার ১ নম্বর ব্লকের শ্যামপুর গ্রামটি আদতে হিন্দু-প্রধান হলেও, সেখানকার ২৮৫ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় অদ্ভুত অসঙ্গতি দেখা গেছে। জানা গিয়েছে, এই বুথের মোট ১০৪৬ জন ভোটারের নাম রয়েছে, এবং তারা প্রত্যেকেই মুসলিম। গ্রামবাসীরা তাদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য দেখতে গিয়ে দেখেন—ভোটার তালিকায় থাকা নামগুলি ভুয়ো।
ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে সুয়েরাবানু খাতুন (৬ নম্বরে), রিপন মল্লিক (৩২২ নম্বরে), মুস্তরা খাতুন (৩২৩ নম্বরে) এবং আকলিন মুুস্তক মিদ্যার (৪৮৫ নম্বরে)। প্রতিটি নামের পাশে বাবা, ঠিকানা ও বাড়ির তথ্য থাকলেও, সবার বয়স ২২ থেকে ২৩ বছর এবং আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো— সবার ভোটার কার্ড নম্বরও এক!
স্থানীয়দের দাবি, শ্যামপুকুর বা আশেপাশে কোনো মুসলিম পরিবারের বসবাস নেই। তাহলে এত সংখ্যক মুসলিম ভোটারের নাম কীভাবে তালিকায় চলে এলো, তা নিয়ে হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুয়ো ভোটার নিয়ে সুভাষ সরকারের দাবি
ঘটনায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকারের দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ধরনের ভুয়ো ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) দিয়ে এই ভুয়ো নামগুলি বাদ দেওয়ানো হবে।
ভুয়ো ভোটারের দায় কমিশনের ঘাড়ে ঠেলল তৃণমূল
এত সংখ্যক ভুয়ো ভোটারের বিষয়টি কার্যত মেনে নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে যে, প্রযুক্তিগত ভুল বা আবেদনের ত্রুটির কারণেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। এই ভুলের জন্য তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে। শাসক শিবিরের আরও দাবি, নিয়ম অনুযায়ী, ভুয়ো ভোটারের নাম এমনিতেই বাদ চলে যাবে।