সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দিদি-কে দোষারোপ’! তৃণমূলকে হারাতে ছাব্বিশের আগে কী নির্দেশ দিল বিজেপি নেতৃত্ব?

মাঠে-ময়দানের লড়াই ছাপিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন ডিজিটাল ময়দানে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে জোর বাড়াচ্ছে রাজ্যের যুযুধান দুই পক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, আর তা নিয়েই বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা। একদিকে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি চালু করেছেন, ঠিক সেই সময়ই রাজ্যের সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি।

সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্যস্তরের নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ পর্যবেক্ষক তথা আইটি সেলের ইনচার্জ অমিত মালব্য।

বিজেপির প্রচারের মূল মন্ত্র:

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের মূল মন্ত্র তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি সমস্ত সমস্যার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস দায়ী—সেই বার্তা তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়েছে, বন্যা, ধর্ষণ, চাকরি চুরি—সবকিছুতে মুখ্যমন্ত্রী অন্যদের দোষারোপ করেন, অথচ তিনি ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়। তাই পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে তৃণমূলকে হারানোর ডাক দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে। একইসঙ্গে এই নির্বাচন যে অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্বাচন, সেই স্লোগানটিকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সায়েন্স সিটিতে মেগা কর্মশালা:

রাজ্যস্তরের এই বৈঠকের পর এবার সারা রাজ্যের সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে কর্মশালা করবে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। আগামী সপ্তাহে সায়েন্স সিটিতে হবে এই কর্মশালা, যেখানে আরও বৃহত্তর বার্তা দেওয়া হতে পারে।

এদিকে, তৃণমূলও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই দলের রাজনৈতিক লড়াই ততই বাড়বে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই হতে চলেছে ভোটের মূল যুদ্ধক্ষেত্র।