হাইট বারে আটকে বাস! আরামবাগে ৫০০-র বেশি বাস বন্ধ, বাস মালিকদের লোকসান, যাত্রীদের পকেট ফাঁকা!

আরামবাগের রামকৃষ্ণ সেতুর (Ramkrishna Setu) উপর দিয়ে বাস চলাচলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হলো বেসরকারি বাস ধর্মঘট। এর জেরে আরামবাগে চরম যাত্রী ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও বাস চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন বাস মালিক সংগঠনগুলি, ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে রামকৃষ্ণ সেতু দিয়ে বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে প্রশাসন। বারবার বৈঠকের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা না ওঠায় বাধ্য হয়েই এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন বাসমালিক সংগঠন। এর ফলে আরামবাগের বিভিন্ন রুটের প্রায় পাঁচ শতাধিক বেসরকারি বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

ভোগান্তির চিত্র:

বাস বন্ধের সুযোগে টোটো, অটো এবং প্রাইভেট কারগুলি যাত্রীদের কাছ থেকে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া হাঁকছে বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিত্যযাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বহু যাত্রী বাধ্য হয়েই এই চড়া ভাড়ায় যাতায়াত করছেন। অনেক নিত্যযাত্রী আবার বাইক নিয়ে কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড এদিন সকাল থেকেই ছিল কার্যত ফাঁকা। কালীপুরের অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডেও বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ ছিল।

বাস মালিকদের ক্ষোভ:

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট রাতে আরামবাগের রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। ব্রিজের দুই পাশে হাইট বার বসানো হয়েছে। বাস মালিক সংগঠনের মূল দাবি, কাটা সার্ভিসের (Bridge-এর দু’পাশ থেকে যাত্রী ওঠানামা) কারণে বাস ব্যবসায় চরম লোকসান হচ্ছে। তাই লোকসান এড়াতে হাইট বারের উচ্চতা বাড়িয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে তারা আবেদন জানিয়েছিল। সেই অনুমতি না মেলায় বাধ্য হয়েই এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পূজার আগে ব্রিজ সংস্কার করে স্বাভাবিক যান চলাচলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও সেই কাজ শেষ না হওয়ায় বাস মালিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মহকুমা প্রশাসন, পরিবহণ দপ্তর ও পূর্তদপ্তরের সঙ্গে বাসমালিকদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, সেই বৈঠক কবে হবে এবং এই দুর্ভোগ কবে কাটবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।