সিবিআইয়ের জালে আর জি কর হাসপাতাল দুর্নীতি, তদন্তে এবার তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ

সিবিআইয়ের জালে আর জি কর হাসপাতাল দুর্নীতি: তদন্তে এবার তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘো

কলকাতা: ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ – আর জি কর হাসপাতাল দুর্নীতি মামলায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের দিকে নজর ফেলেছে সিবিআই। তদন্তের অংশ হিসেবে তার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই নিহত তরুণী চিকিৎসক অভয়ার বাবা-মা অতীন ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অভয়ার বাবা-মায়ের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে যারা খুন করেছিল, অতীন ঘোষের সাহায্যেই তারা পালিয়ে যেতে পেরেছিল। একইসঙ্গে, আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলিও অতীন ঘোষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তার মতে, হাসপাতালে একনায়কতন্ত্র চলত এবং অতীন ঘোষ এই দুর্নীতিতে মদত দিতেন।

তবে, তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ মানতে রাজি নয়। তারা এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফরের পরই কেন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো এত সক্রিয় হয়ে উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। গত শুক্রবার দমদমের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “যে টাকা ভারত সরকার দিল্লি থেকে পাঠায়, সেই টাকা আপনাদের জন্য খরচ করা হয় না। সেই টাকা মহিলাদের জীবন সহজ করার স্বার্থে খরচ করা হয় না, সেই টাকা তৃণমূলের কর্মীদের উপর খরচ হয়। বাংলার প্রয়োজন সত্যিকারের পরিবর্তন, আসল পরিবর্তন। এমন পরিবর্তন যেখানে অপরাধী এবং দুর্নীতিগ্রস্তরা সরকারে নয়, বরং জেলে থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আর জি কর দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইডি তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ১৬৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিবিআই অতীন ঘোষের বাড়িতে পৌঁছায়।

তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাগুলোকে পরপর সাজিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আর জি কর দুর্নীতি মামলার তদন্ত কতদূর এগোবে এবং এই ঘটনাগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ কতটা? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আরও অপেক্ষা কর

তে হবে।