পাকিস্তান-চীনের পর এবার বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ, এবার বাংলায় আসছেন মোদী

দেশের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ছিল পাকিস্তান ও চীনকে ঘিরে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তের পরিস্থিতি নতুন করে নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে আগামী মাসে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কেন কলকাতায় এই বৈঠক?
সাধারণত, উচ্চ পর্যায়ের সেনা বৈঠকগুলো নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এবার কলকাতায় বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্টার্ন কমান্ড বা পূর্বাঞ্চল দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল সেনা কমান্ডগুলির মধ্যে অন্যতম। এর অধীনে রয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত। এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরাসরি এখানে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে প্রধানমন্ত্রী মোদী পূর্বাঞ্চলের সেনা কমান্ডার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এই বৈঠকে সীমান্তের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বা আর্টিলারি মোতায়েন করা প্রয়োজন এবং নিরাপত্তা আরও কতটা বাড়ানো দরকার, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও উদ্বেগের কারণ
এই মুহূর্তে কেন এই আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে, তার কয়েকটি কারণ রয়েছে:

বাংলাদেশের পরিস্থিতি: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মায়ানমারে সেনাশাসন চলার কারণে বাংলা ও উত্তর-পূর্বের কয়েকটি অঞ্চল অনুপ্রবেশকারীদের জন্য একটি ট্রানজিট রুট হয়ে উঠেছে।

চীনের নজর: যদিও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবুও অরুণাচল প্রদেশের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত থেকে তাদের নজর এখনও সরেনি।

এই প্রেক্ষাপটে, নয়াদিল্লির লক্ষ্য হলো দেশের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তকে আরও মজবুত করা। সেই উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে। তবে এই বৈঠক নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে জানানো হয়নি।