উত্তরপ্রদেশের পুণ্যার্থীদের বাস আটকানো হলো বাংলায়, ভক্তদের হেনস্থার অভিযোগ

উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের একটি বাস ঘিরে বুধবার সারাদিন ব্যাপক শোরগোল চলেছে বীরভূমের মল্লারপুরে। পুণ্যার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, রামপুরহাটের পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকরা তাদের বাস সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আটকে রেখে হেনস্থা করেছেন। যদিও পরিবহন দপ্তরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে যে, বাসটির এ রাজ্যে প্রবেশের কোনো বৈধ পারমিট ছিল না।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে। উত্তরপ্রদেশের পুণ্যার্থীদের নিয়ে আসা ওই বাসটি প্রথমে তারাপীঠ মন্দিরে যায় এবং সেখানে পুজো দেন পুণ্যার্থীরা। এরপর তাদের দক্ষিণেশ্বর-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর মল্লারপুরে রামপুরহাটের পরিবহন দপ্তরের ইন্সপেক্টররা বাসটিকে আটকান। বাস চালক যে নথি পেশ করেন, ইন্সপেক্টররা সেটিকে নকল বলে দাবি করেন। যদিও চালকের দাবি, ওই চালান তাকে ইসলামপুর চেকপোস্টে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিবহন দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের ওই গাড়িটির বাংলায় ঢোকার কোনো পারমিট ছিল না। এই কারণেই বাসটিকে আটকানো হয় এবং বুধবার বেলা একটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত রামপুরহাট মহকুমা পরিবহন দপ্তরের ইন্সপেক্টররা সেটিকে মল্লারপুর কিষাণ মান্ডিতে আটকে রাখেন। বাসটিকে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানাও করা হয়।

পুণ্যার্থীদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে বুধবার রাতে স্থানীয় বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর মল্লারপুরে পথ অবরোধ শুরু করেন। পরে মল্লারপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়। পুলিশ জানায়, উত্তরপ্রদেশে গিয়ে বাসের মালিক বাংলায় ঢোকার পারমিটের টাকা মেটাবেন— এই মর্মে মুচলেকা লিখিয়ে বাসটিকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পুলিশ আটক পুণ্যার্থীদের জন্য খাবার ও জলের ব্যবস্থাও করে।

এদিকে, এই ঘটনার সূত্র ধরে কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ‘বাংলাদেশি’দের খোঁজে বিভিন্ন রাজ্যে হঠাৎ করে অভিযান চালানো নিয়ে হাইকোর্ট কেন্দ্রকে প্রশ্ন করে বলেছে, “বাংলাদেশির খোঁজে সব রাজ্যে কেন হঠাৎ অভিযান?” এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন বিভিন্ন রাজ্যে আন্তঃরাজ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নথিপত্র নিয়ে কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনা একদিকে যেমন পুণ্যার্থীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে, তেমনি আন্তঃরাজ্য পরিবহনের নিয়মাবলী এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পদ্ধতির দিকে নতুন করে নজর দিতে বাধ্য করছে।