“কখন কী খসে পড়ে মাথায়!”-ভয়েই কেউ যেতে চাইছেন না বাজারে, জেনেনিন কোথায়?

সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে মরচে পড়া রড, দীর্ঘকাল ধরে পড়েনি রঙের প্রলেপ—এক ঝলক দেখলেই বোঝা যায়, সংস্কার শব্দটা যেন সল্টলেকের জিডি মার্কেটের অভিধানে নেই। গ্রামবাংলার কোনো সাধারণ বিল্ডিং নয়, কলকাতা লাগোয়া উপনগরী সল্টলেকের অন্যতম জনপ্রিয় এই জিডি মার্কেটের বর্তমান অবস্থা এমনই জরাজীর্ণ। প্রায় নয় মাস আগে সংস্কারের কাজ শুরু হলেও, সামনের দিকের কিছু অংশ মেরামতের পরেই সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে অধৈর্য হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিধাননগর পুরনিগম ঠিকাদারকে পাওনা টাকা না মেটানোয় কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার সংস্থা চলে গেছে। তারপর থেকে প্রায় নয় মাস কেটে গেলেও সেই থমকে থাকা কাজ আর শুরু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বাজারের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পারিষদ (বাজার) রাজেশ চিড়িমার। তার দাবি, ‘১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা দিয়ে একাংশে সংস্কারের কাজ হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই শৌচালয় সংস্কারের কাজ এবং পরে বাকি অংশের কাজ হবে।’

তবে, এতগুলো দিন কাজ বন্ধ থাকার পেছনে পুরনিগমের অফিসারদের যুক্তি হলো, প্রথমে জিডি মার্কেটের সবচেয়ে খারাপ অংশের কাজগুলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। মাঝে একটি সময়ে নিগমের হাতে টাকার অভাব ছিল, এবং সেই টাকা জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ঢিলেঢালা গতিতে কাজ দেখে বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ যারপরনাই ক্ষুব্ধ। তাদের একটাই দাবি—দ্রুত মার্কেটের সম্পূর্ণ সংস্কার হোক।

শুধু জিডি ব্লক নয়, করুণাময়ী থেকে শুরু করে ই-ই, এইচবি, এফই, জিসি ব্লকের বহু বাসিন্দার নিত্যদিনের জিনিসপত্র কেনার প্রধান ভরসা এই জিডি মার্কেট। কিন্তু মার্কেটের এতটাই জরাজীর্ণ অবস্থা যে, দুর্ঘটনার ভয়ে অনেকে এই বাজারে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ই-ই ব্লকের বাসিন্দা মালতী চৌধুরী বলেন, ‘রোজকার প্রয়োজনের জিনিস কিনতে আগে জিডি মার্কেটেই যেতাম। কিন্তু এখন ওই মার্কেটের অবস্থা এতটাই বেহাল যে, মেয়ে যেতে দেয় না। অনলাইনেই এখন অধিকাংশ জিনিস কিনি।’

বিধাননগর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য তথা জিডি ব্লকের বাসিন্দা কুমারশঙ্কর সাধুর বক্তব্য, ‘শুধু জিডি নয়। আশপাশের অনেক ব্লকের বাসিন্দা এই মার্কেটে আসেন। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানই নয়, একাধিক স্যালন থেকে ভাতের হোটেল – সবই আছে এই মার্কেটে।’

সব মিলিয়ে এই মার্কেটে ৮৪টি দোকান রয়েছে। মার্কেটের শুধু বাইরের নয়, ভিতরের অবস্থাও তথৈবচ। ব্যবসায়ীদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছাদ থেকে মাঝেমধ্যেই কংক্রিটের টুকরো ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শৌচালয়ের। সেখানে কেউ যেতেই চান না। মার্কেটের একটি দোকানের কর্মী মিন্টু দত্ত জানান, ‘কেউ নিতান্ত বাধ্য হলে জিডি বাস টার্মিনাসের শৌচালয়ে যান।’

দোকানদার কৃষ্ণচন্দ্র মাইতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এখনও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাজারের এই দশার কারণে ব্যবসাও ধাক্কা খাচ্ছে।’ তবে, মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা স্বাধীন সরকার আশ্বাস দিয়েছেন, ‘বিধাননগর পুরনিগমের মার্কেট বিভাগের অফিসারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

পুরনিগমের এই আশ্বাস কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং জিডি মার্কেট তার পুরনো জৌলুস ফিরে পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।