“আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পিছনে…!”-বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বাড়ছে রহস্য?

চলতি মাসের ১২ জুন আহমেদাবাদে সংঘটিত ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার পেছনে ‘অন্তর্ঘাত’ বা ‘সাবোতাজ’ এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল। রবিবার পুনেতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল বলেন, “ওই ঘটনার তদন্ত করছে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)। তারা সব দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত করছে। এর মধ্যে ‘অন্তর্ঘাত’ (সাবোতাজ)-ও আছে।” তার এই মন্তব্য বিমানের নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানব ভুলের বাইরে গিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে।

গত ১২ জুন, আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরেই লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটটি ভেঙে পড়েছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪১ জন-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। এই বিশাল প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) উদ্ধার করা হয়েছে, যা ‘ব্ল্যাক বক্স’ নামে পরিচিত। তদন্তকারী আধিকারিকরা এই ব্ল্যাক বক্সের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, “এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো। সম্ভাব্য নাশকতা-সহ সকল দিক থেকে তা তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সকল দিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংস্থা এই নিয়ে কাজ করছে।”

তদন্তকারীরা এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক সম্ভাবনা পরীক্ষা করছেন। এর মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া বা ইঞ্জিনের ব্যর্থতা, সিস্টেমের ত্রুটি এবং মানুষের ত্রুটি উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ব্ল্যাক বক্সের তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণই কেবল ১২ জুনের দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পারবে। ফ্লাইটটি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই পাইলট মিড-ডে কল করেছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রতিমন্ত্রীর এই ‘অন্তর্ঘাত’ মন্তব্যের পর তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াকিবহাল মহল।