“এইভাবেই পারমাণবিক যুদ্ধ থেমে যায়…”-ভারত-পাক যুদ্ধ বিরতি নিয়ে যা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ন্যাটোর সম্মেলন শেষে হেগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গত মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ছিল বিশ্বব্যাপী চলমান উত্তেজনাগুলোর মধ্যে “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকট”। তিনি আরও দাবি করেন, দুই দেশের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েই তিনি এই পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, এবং এর মাধ্যমেই ‘পারমাণবিক যুদ্ধ থেমে গেছে’।

বুধবার ন্যাটোর সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “এটা এমন না যে, ভবিষ্যতে ওরা পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে— যেমনটা আমরা মধ্যপ্রাচ্যে বা ইসরায়েল-ইরানের প্রসঙ্গে বলছি। এরা আগে থেকেই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।” অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর ছিল।

তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর তিনি উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের ফোন করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তিনি তাঁদের বলেন, “যদি তোমরা লড়াই করতে চাও, তাহলে আমরা কোনও বাণিজ্য করব না।” তাঁর দাবি, এই হুমকির পর উভয় পক্ষই দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে জানায়, “না না, আমরা বাণিজ্য চুক্তি চাই।”

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন, “আমি পাকিস্তানের একজন জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যিনি খুবই প্রভাবশালী একজন মানুষ। তিনি আমার অফিসে এসেছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিরও বন্ধু। তিনিও একজন অসাধারণ মানুষ।” তিনি বলেন, “আমি তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম— যদি লড়াই করো, তাহলে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) বাণিজ্য করা হবে না।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তারা বলল, ‘না, আমরা বাণিজ্য চুক্তিই চাই’। এবং এইভাবেই পারমাণবিক যুদ্ধ থেমে যায়।”

ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবি আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাঁর এই মন্তব্যকে ‘অতিরিক্ত সরলীকরণ’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেবল বাণিজ্য চুক্তির ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার দাবি করা হচ্ছে। যদিও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত দাবি নয়া বিতর্কের জন্ম দিল।