“মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অ-আ শিখতে যাচ্ছেন”, মুর্শিদাবাদের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালকে নিশানা হিরণের

মুর্শিদাবাদের সুতি, ধুলিয়ান ও জঙ্গিপুরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে তীব্র আক্রমণ করলেন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। মেদিনীপুরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। হিরণের অভিযোগ, রাজ্যের মানুষের কষ্ট দেখে রাজ্যপাল যেন উল্লসিত হচ্ছেন। সেই কারণেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অ-আ-ক-খ শিখতে যাচ্ছেন বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি বিধায়ক।
হিরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার মানুষের যে আজকে এই দুঃখ-কষ্ট, তা দেখে উনি বোধহয় উল্লসিত হচ্ছেন। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অ-আ শিখতে যাচ্ছেন।”
রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতে সরব হয়ে হিরণ আরও বলেন, “রাজ্যে যিনি রাজ্যপাল তিনি কেরল নামে একটি রাজ্য থেকে এসেছেন। তাঁর সময় নেই বাংলার মানুষের কষ্টের জন্য। বাংলার মা-বোনেরা যে কাঁদছেন, বাংলার মা-বোনেদের ইজ্জত লুটিয়ে যাচ্ছে, বাংলার ভাই-বোনদের রক্ত বইছে, গরিব মানুষের ঘর জ্বলছে, সেদিকে তাকানোর সময় নেই। বরং তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছুটে যাচ্ছেন অ-আ-ক-খ শিখতে।”
হিরণের স্পষ্ট অভিযোগ, বাংলার মানুষের কথা ভাবার মতো সময় বর্তমান রাজ্যপালের নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যের পূর্বতন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের প্রশংসা করেন। হিরণ বলেন, “এর আগে যিনি রাজ্যপাল ছিলেন, জগদীপ ধনখড়, তিনি তবুও চেষ্টা করে গিয়েছেন বাংলার সুদিন ফিরিয়ে আনার। বাংলার মানুষের কষ্টের কথা দিল্লিতে গিয়ে বলেছেন। কিন্তু, এই রাজ্যপালের সেই সময় নেই।”
উল্লেখ্য, ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সুতি ও জঙ্গিপুরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন যে, ধুলিয়ানের প্রায় চারশোর বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং স্থানীয় একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।