“শুধু বাংলা বাকি আছে, নির্বাচনের পর তাও দখল করে নেব”- ফের হুঙ্কার অমিত শাহর

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। চার বছর কেটে গেলেও সেই লক্ষ্য অধরা থেকে গেছে। এবার ২০২৬ সালের শুরুতে রাজ্যে ফের বিধানসভা ভোটের আগে তিনি লোকসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, “আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে কমল ফুটবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনাই তাঁর দলের লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করলেন তিনি।
লোকসভায় দিল্লি-বাংলার প্রসঙ্গ
অমিত শাহ এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেশের বহু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। দিল্লিও আমরা দখল করেছি। সেখানকার মানুষ এতদিন আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাননি, এবার থেকে পাবেন। চিকিৎসায় ৫ লাখ টাকার সুবিধা তাঁদের জন্য মুক্ত হল।” এই কথা বলার সময় তৃণমূল সাংসদরা হট্টগোল শুরু করেন। তখনই শাহ পাল্টা বলেন, “দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গেও কমল ফুটবে। তখন সেখানকার মানুষও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন।”
বিজেপির প্রস্তুতি, তৃণমূলের কটাক্ষ
২০২৬ সালের ভোট এখনও প্রায় এক বছর দূরে হলেও, বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছে। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণের পালা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, “বিজেপি অন্তত ১৮০ আসন পাবে।” তৃণমূল এই দাবিকে কটাক্ষ করে বলেছে, “২০২১-এ ৭৭ আসনে থেমেছিলেন, এবারও স্বপ্ন দেখছেন।” উল্লেখ্য, গতবার নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবারও তৃণমূল সুপ্রিমোকে পরাজিত করার দাবি তুলেছেন তিনি।
মোদী সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন শাহ
লোকসভায় অমিত শাহ বিজেপি সরকারের ১০ বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০১৪-এ এনডিএ সরকার গঠনের পর দরিদ্রদের জন্য ঘর, শৌচাগার, পানীয় জল, বিনামূল্যে ৫ কেজি শস্য, গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ মওকুফ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ত্রিভুবন ভাই প্যাটেলের নামে সমবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।”
কংগ্রেসের উপর আক্রমণ
কংগ্রেসকেও নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের আগে ও পরে দেশের উন্নয়নের পরিসংখ্যান স্পষ্ট। গরিবদের এগিয়ে না নিয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগ আনতে হবে, শিল্প গড়তে হবে।”
রাজনৈতিক তরজা
অমিত শাহের এই বক্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। তৃণমূলের হট্টগোল ও বিজেপির আত্মবিশ্বাসের মধ্যে ২০২৬-এর ভোটের মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে হাতিয়ার করে বিজেপি বাংলায় জমি শক্ত করতে চাইছে। তবে মমতার দুর্গ ভাঙা গেরুয়া শিবিরের কাছে কতটা সহজ হবে, তা সময়ই বলবে।