বিজেপি বিধায়কের গাড়ির ইঞ্জিন খোলার অভিযোগ, ঘটনায় চাঞ্চল্য বাংলায়

গাজোল থানার শঙ্করপুর এলাকায় বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মণের গাড়িতে নাশকতার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিধায়কের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির লক ভেঙে ইঞ্জিনের অংশ খুলে ফেলেছে, যাতে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনার সমর্থনে তিনি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করেছেন। গাজোল থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গাজোল শহরের সুকান্ত পল্লীতে, ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বিধায়কের বাড়ির কাছে। চিন্ময় দেব বর্মণ জানিয়েছেন, প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির ওপর তাণ্ডব চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়ির সামনের ইঞ্জিন খোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল গাড়িটিকে দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দেওয়া, যাতে তিনি বা তাঁর পরিবারের ক্ষতি হয়। এই ঘটনার জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
প্রকাশিত ফুটেজ দেখে এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে বিধায়ক নিজেও শঙ্কিত। জাতীয় সড়কের ধারে এবং গাজোল শহরের মতো জনবহুল এলাকায় এমন দুষ্কৃতীমূলক হামলা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। বিধায়ক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দল একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে। এই ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি বিধায়কের গাড়িতে নাশকতার এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “পুলিশ যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। বিধায়ককে পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে হবে। তদন্তে সঠিক অপরাধীকে খুঁজে বের করা হবে।” তিনি এও মনে করেন, এর পিছনে বিজেপির অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল থাকতে পারে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গাজোল থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ঘটনার তদন্তে গতি আনার জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।