বেশি না কম? সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় হবু মায়েদের ওজন কেমন হওয়া উচিত? দেখেনিন

গর্ভকালীন মেয়েদের ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এই ওজন শুধু হবু মায়ের নয়, গর্ভের ভ্রূণেরও। তবে সকলের ক্ষেত্রেই একই হারে ওজন বাড়ে না। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সন্তানধারণের প্রথম দিকে ওজনে বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয় না। আবার অনেকের ক্ষেত্রেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হয়।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কার ওজন বাড়বে, আর কার বাড়বে না তা নির্ভর করে মেয়েদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই)-এর উপর। বিএমআই হল উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত। একক ভ্রূণের ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের বিএমআই ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে থাকলেই ভাল। যদি বিএমআই ১৮-এর নীচে থাকে, তাহলে ওজন বাড়াতে হবে। আবার যদি বিএমআই ৩০-এর উপরে থাকে, তাহলে ওজন বাড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে অবশ্য বিএমআই-এর মান আলাদা।
গর্ভকালীন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত জল পান ও পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া
গর্ভকালীন সময়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। এছাড়াও প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটাতে মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত।
নিয়মিত শরীরচর্চা
গর্ভকালীন সময়ে হালকা শরীরচর্চা করা উচিত। শরীরচর্চা করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং গর্ভধারণের জটিলতা কম হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চা করা উচিত।
পর্যাপ্ত জল পান
গর্ভকালীন সময়ে পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। জল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করা উচিত।
পর্যাপ্ত ঘুম
গর্ভকালীন সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমালে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত।
গর্ভকালীন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে মা ও শিশু দুজনেরই সুস্থতা নিশ্চিত হয়।