“প্যারালাইসিস এবার জয় হবেই!”-বিশ্বে প্রথম ‘ব্রেইন চিপ’-এর বাণিজ্যিক অনুমোদন দিল চীন

পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্যারালাইজড রোগীদের জন্য বিজ্ঞানের এক অবিশ্বাস্য জয়গান গাইল চীন। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ‘ব্রেইন চিপ’ (Brain Chip) ডিভাইসের অনুমোদন দিল বেইজিং। ইলন মাস্কের ‘নিউরালিংক’-কে কড়া টক্কর দিয়ে চীনা কোম্পানি বোরুই কাং মেডিকেল টেকনোলজি এই অসাধ্য সাধন করেছে।

কীভাবে কাজ করবে এই ‘ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস’ (BCI)?

এটি মূলত একটি ‘ইনভেসিভ’ সিস্টেম। অর্থাৎ, বিশেষ এক ধরনের ইলেকট্রোড অপারেশনের মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কের ভেতরে স্থাপন করা হবে।

  • লক্ষ্য: মেরুদণ্ডে আঘাতের কারণে যারা হাত নাড়াতে বা মুঠো করতে পারেন না (কোয়াড্রিপ্লেজিয়া), তাঁদের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা।

  • পদ্ধতি: মস্তিষ্ক থেকে সংকেত গ্রহণ করে এই চিপটি একটি বিশেষ ‘স্মার্ট গ্লাভস’-এ বার্তা পাঠাবে। ফলে রোগী চাইলেই তাঁর হাত মুঠো করতে বা কোনো কিছু ধরতে পারবেন।

  • নিরাপত্তা: এতে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ এক্সট্রাডিউরাল ইমপ্লান্টেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা প্রচলিত ব্রেইন অপারেশনের তুলনায় অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ।

কারা পাবেন এই সুবিধা? (যোগ্যতা):

চীনা ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (NMPA) নির্দেশিকা অনুযায়ী, সবাই এই চিপ ব্যবহার করতে পারবেন না। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে: ১. বয়স: ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ২. অসুস্থতা: মেরুদণ্ডের আঘাত অন্তত এক বছরের পুরনো হতে হবে এবং গত ৬ মাস শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকা জরুরি। ৩. শারীরিক অবস্থা: যারা হাতের ওপরের অংশ সামান্য নাড়াতে পারেন কিন্তু আঙুল বা হাতের তালু ব্যবহার করতে পারেন না, তাঁরাই এই চিকিৎসার জন্য যোগ্য।

ভবিষ্যতের শিল্প: বনাম আমেরিকা

বেইজিং তাদের সর্বশেষ পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় বিসিআই (BCI) প্রযুক্তিকে ‘ভবিষ্যতের শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি চীনের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আমেরিকার ‘নিউরালিংক’-এর সাথে প্রতিযোগিতায় এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই চীন এই দ্রুত বাণিজ্যিক অনুমোদন দিয়েছে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল:

ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই চিপ ব্যবহারের পর রোগীদের হাত মুঠো করার সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বেড়ে গেছে। এটি কেবল চিকিৎসা নয়, বরং পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই।