AI-কি আপনার মগজ পুড়িয়ে দিচ্ছে? গবেষকদের ‘AI Brain Fire’ নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব!

কোডিং থেকে ডিজাইন, মার্কেটিং থেকে অ্যাকাউন্টিং— এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আমাদের সব কাজের সঙ্গী। কিন্তু এই ‘সহজ’ প্রযুক্তির আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা এক নতুন বিপদের কথা শুনিয়েছে, গবেষকরা যার নাম দিয়েছেন ‘এআই ব্রেইন ফায়ার’ (AI Brain Fire)।
কী এই ‘এআই ব্রেইন ফায়ার’?
প্রায় দেড় হাজার কর্মীর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা সারাদিন একাধিক এআই টুল ব্যবহার করেন, তারা মানসিকভাবে চরম ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে শরীরে ও মস্তিষ্কে যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে তা হলো:
-
মস্তিষ্কে সারাক্ষণ ঝিমঝিম ভাব।
-
মনোযোগের তীব্র অভাব ও সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া।
-
ঘনঘন মাথাব্যথা ও মানসিক অবসাদ।
সাধারণ ক্লান্তির চেয়ে এটি কেন আলাদা?
সাধারণ কাজের চাপে মানুষ আবেগগতভাবে ক্লান্ত হয়, কিন্তু ‘এআই ব্রেইন ফায়ার’ সরাসরি মস্তিষ্কের নিউরনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এআই-এর দেওয়া তথ্য বা আউটপুট সঠিক কি না, তা যাচাই করতে গিয়ে মানুষের মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাটতে হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে যায়।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে কোন পেশার মানুষ?
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এআই-এর কুপ্রভাব সব পেশায় সমান নয়:
-
মার্কেটিং: তালিকার শীর্ষে (২৬ শতাংশ কর্মী আক্রান্ত)।
-
এইচআর ও অপারেশনস: দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।
-
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট: চতুর্থ স্থানে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, কাজের চেয়ে এআই-কে ‘সামলানো’ বা এর ভুল ধরা এখন কর্মীদের কাছে বেশি ক্লান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাবে অনেক পেশাদার কর্মী এখন চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন।
বাঁচার উপায় কী?
গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়, কিন্তু এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই বিপদের মূল কারণ। এআই-কে কেবল যান্ত্রিক কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের পুরোটা এর ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে সুষম ও নিয়ন্ত্রিত দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে আপনার সৃজনশীলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।