প্রচুর ‘মদ নিয়ে’ চলে যাচ্ছে আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটি, জেনেনিন কি বলছে বিজ্ঞানীরা?

মহাকাশের এক রহস্যময় পর্যটক সে। নাম ৩আই অ্যাটলাস। সম্প্রতি আমাদের সৌরজগৎ পেরিয়ে সে ফিরে গিয়েছে গভীর আন্তনাক্ষত্রিক মহাকাশে। কিন্তু যাওয়ার আগে পৃথিবীর কাছে দিয়ে যাওয়ার সময় সে যে তথ্য বা ‘ডেটা’ রেখে গিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে চক্ষু চড়কগাছ বিজ্ঞানীদের। চিলির আতাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত অ্যালমা (ALMA) টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এই ধূমকেতুর লেজ বা গ্যাসীয় আবরণে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মিথানল

কেন অবাক হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা? সাধারণত সৌরজগতের ধূমকেতুতে মিথানল পাওয়া যায়, তবে ৩আই অ্যাটলাসের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ প্রায় চার গুণ বেশি। গবেষকদের মতে, এটি এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ধূমকেতুগুলোর মধ্যে মিথানল সমৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শুধু মিথানল নয়, এতে কার্বন ডাইঅক্সাইড, লোহা ও নাইট্রোজেনের মতো উপাদানের উচ্চ উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের ধারণা দিচ্ছে যে, এর জন্ম সম্ভবত সৌরজগতের বাইরের এমন কোনও অঞ্চলে, যা আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি ঠান্ডা।

এটি কি একটি ‘হাইপারঅ্যাক্টিভ’ ধূমকেতু? বিজ্ঞানীদের মতে, ৩আই অ্যাটলাস একটি ‘হাইপারঅ্যাক্টিভ’ ধূমকেতুর উদাহরণ হতে পারে। এর মানে হল, এই ধূমকেতুটির কেন্দ্র থেকে যতটা গ্যাস বের হওয়ার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এর কেন্দ্র থেকে শুধু গ্যাস বেরোচ্ছে না, বরং এর চারপাশে ভাসমান বরফ কণাগুলো সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়ে প্রচুর মিথানল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ছড়াচ্ছে।

ইতিহাসের তৃতীয় আগন্তুক: ইতিহাসে ৩আই অ্যাটলাস হল তৃতীয় নিশ্চিত আন্তনাক্ষত্রিক বস্তু (Interstellar Object)। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তবে এই উচ্চ মিথানল এবং জটিল রাসায়নিক গঠন প্রমাণ করে দিয়েছে যে এটি কোনও কৃত্রিম বস্তু নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক মহাজাগতিক বিস্ময়।