কিউআর কোড আসল নাকি নকল বুঝবেন যেভাবে, জেনেনিন পদ্ধতি

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করার ঝামেলা নেই ঠিকই, কিন্তু স্মার্টফোনের এক ক্লিকেই সাফ হয়ে যেতে পারে আপনার সারা জীবনের সঞ্চয়। কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সময় আপনার সামান্য অসতর্কতাই কিন্তু প্রতারকদের জন্য পোয়াবারো।
চায়ের দোকান থেকে শপিং মল—এখন সর্বত্রই কিউআর কোডের জয়জয়কার। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই ওত পেতে বসে আছে সাইবার অপরাধীরা। কিউআর কোড জালিয়াতি বা ‘কুয়িশিং’ (Quishing)-এর মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। তাই ডিজিটাল লেনদেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আজই জেনে নিন এই কৌশলগুলো:
১. স্টিকারের কারসাজি ধরুন: দোকানে রাখা কিউআর কোডটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। অনেক সময় প্রতারকরা আসল কোডের ওপর নিজেদের তৈরি করা কোনো কোডের স্টিকার লাগিয়ে দেয়। যদি দেখেন কোডটি অমসৃণ বা স্টিকার লাগানো, তবে স্ক্যান করা থেকে বিরত থাকুন। সরাসরি দোকানের মালিককে বিষয়টি জানান।
২. নাম যাচাই মাস্ট: কোড স্ক্যান করার পর পেমেন্ট অ্যাপের স্ক্রিনে যে নামটি দেখাচ্ছে, সেটি কি দোকানের নামের সঙ্গে মিলছে? অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়ো করে নাম না দেখেই পিন (PIN) এন্টার করি। মনে রাখবেন, নাম ভুল মানেই আপনার টাকা ভুল হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০০%।
৩. টাকা পাওয়ার জন্য স্ক্যান নয়: এটি সবথেকে বড় এবং পুরনো ফাঁদ। মনে রাখবেন, টাকা পাঠানোর জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয়, টাকা পাওয়ার জন্য নয়। কেউ যদি আপনাকে বলে যে একটি কোড স্ক্যান করলে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে, তবে নিশ্চিত জানুন সেটি একটি জালিয়াতি।
৪. বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করুন: ফোনপে (PhonePe), গুগল পে (Google Pay) বা পেটিএম (Paytm)-এর মতো স্বীকৃত এবং বিশ্বস্ত পেমেন্ট অ্যাপ দিয়েই কিউআর স্ক্যান করুন। অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট বা থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করলে আপনার ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসওয়ার্ড চুরি হতে পারে।
৫. সন্দেহ হলেই অভিযোগ: যদি কোনো কোড সন্দেহজনক মনে হয় বা ভুল করে পেমেন্ট করে ফেলেন, তবে দেরি না করে আপনার ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর বা সাইবার ক্রাইম পোর্টালে (১৯৩০ নম্বরে) অভিযোগ জানান।