পছন্দমতো অ্যাপ বানাতে পারবেন নিজেই, আসছে অবিশ্বাস্য ‘ভাইব কোডিং’

স্মার্টফোন মানেই কি শুধু একগুচ্ছ ডাউনলোড করা অ্যাপ? গত কয়েক বছর ধরে ফিচারে বড় কোনও পরিবর্তন না আসায় যারা কিছুটা একঘেয়েমিতে ভুগছিলেন, তাঁদের জন্য আসছে এক বৈপ্লবিক সম্ভাবনা। প্রযুক্তি বিশ্বে এখন নতুন চর্চার বিষয় হলো ‘ভাইব কোডিং’ (Vibe Coding)। এর মাধ্যমে কোডিং-এর ‘ক’ না জানলেও ভবিষ্যতে আপনি নিজেই হয়ে উঠবেন আপনার ফোনের অ্যাপ নির্মাতা!

কী এই ‘ভাইব কোডিং’?

এতদিন আমরা প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর তৈরি করা অ্যাপের ফিচারেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। কিন্তু ‘ভাইব কোডিং’ ধারণাটি সেই দেওয়াল ভেঙে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ফিচার বদলাতে বা ছোটখাটো নতুন ফাংশন যোগ করতে পারবেন। অর্থাৎ, অ্যাপ ব্যবহারকারী নয়, আপনিই হবেন অ্যাপের ডিজাইনার।

রেসে নেমেছে স্যামসাং ও নাথিং

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং তাদের ‘ওয়ান ইউআই’ (One UI) প্ল্যাটফর্মে এই অভাবনীয় ফিচার যুক্ত করার পথে হাঁটছে। সংস্থার মোবাইল এক্সপিরিয়েন্স প্রধান উন জন চই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ব্যবহারকারীরা যাতে নিজেদের প্রয়োজন মতো অ্যাপ সাজিয়ে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

অন্যদিকে, নাথিং (Nothing) ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চালু করেছে তাদের ‘প্লেগ্রাউন্ড’ প্ল্যাটফর্ম। এখানে ব্যবহারকারীরা কেবল টেক্সট লিখে (যেমন: “আমার ফ্লাইটের তথ্য দেখাও”) নিজেদের জন্য ছোট উইজেট তৈরি করে নিতে পারছেন।

কোডিং ছাড়াই অ্যাপ তৈরি সম্ভব?

ওপেনএআই-এর ‘কোডেক্স’ বা অ্যানথ্রপিক-এর ‘ক্লাউড অ্যাজেন্ট’-এর মতো এআই টুলগুলো এখন অসাধ্য সাধন করছে। এমনকি একজন প্রযুক্তি সাংবাদিক মাত্র ১৫ মিনিটে একটি কার্যকর ম্যাক অ্যাপ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে:

  • ব্যবহারকারীকে আর কোডিং শিখতে হবে না।

  • সহজ নির্দেশের মাধ্যমেই তৈরি হবে পার্সোনালাইজড সফটওয়্যার।

  • স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।

এক নজরে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা

প্রযুক্তি কী পরিবর্তন আনবে?
ভাইব কোডিং নিজের মতো করে অ্যাপের ফিচার তৈরির সুযোগ।
এআই টুলস কোডিং ছাড়াই জটিল সফটওয়্যার নির্মাণ।
ফিউচার স্মার্টফোন ডিভাইস কোম্পানি নয়, ব্যবহারকারীই হবেন নির্মাতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপল বা স্যামসাং-এর মতো বড় সংস্থাগুলো যদি এই জটিল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে পারে, তবে স্মার্টফোন ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে যাবে। আপনার ফোন আর পাঁচটা মানুষের মতো হবে না, হবে ঠিক আপনার মনের মতো।