পুরোনো ফোন ঘরে ফেলে রাখছেন? বিপদ ঘটতে পারে, জেনেনিন কেন?

নতুন ফোন কেনার পর পুরনো ফোনটি আলমারির কোণে বা ড্রয়ারে ফেলে রাখা আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অব্যবহৃত স্মার্টফোনের ব্যাটারি সময়ের সাথে সাথে হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কেন বিপজ্জনক আপনার পুরনো ফোন?
আজকালকার স্মার্টফোনে মূলত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোন বন্ধ থাকলেও এই ব্যাটারির ভেতরে সূক্ষ্ম রাসায়নিক বিক্রিয়া চলতে থাকে।
-
ব্যাটারি ফুলে যাওয়া: দীর্ঘদিন চার্জ না দিলে বা অতিরিক্ত গরমে থাকলে ব্যাটারি ফুলে যায়।
-
শর্ট সার্কিট: ব্যাটারির ভেতরে থাকা রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হলে হঠাৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়।
-
চার্জিং রিঅ্যাকশন: অনেকদিন বন্ধ থাকা ফোন হঠাৎ চার্জে দিলে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে ফেটে যেতে পারে।
পরিবেশের জন্য নীরব ঘাতক
পুরনো ফোন শুধু আপনার জীবনের জন্যই নয়, প্রকৃতির জন্যও ক্ষতিকর। ব্যাটারিতে থাকা লিথিয়াম, কোবাল্ট বা ক্যাডমিয়ামের মতো রাসায়নিক উপাদান ভুলভাবে ফেললে তা মাটি ও জলের ভয়াবহ দূষণ ঘটায়। তাই একে সাধারণ আবর্জনার সাথে না ফেলে ই-ওয়েস্ট (E-Waste) ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নষ্ট করা জরুরি।
বিপদ এড়াতে যা অবশ্যই করবেন:
১. ফুলে যাওয়া ব্যাটারি: ফোনের পেছনের অংশ সামান্য ফুলে গেছে মনে হলেই সেটি ঘর থেকে বের করুন এবং ব্যবহার বন্ধ করুন। ২. সংরক্ষণ পদ্ধতি: ফোনটি যদি তুলেই রাখতে হয়, তবে অন্তত ৫০% চার্জ দিয়ে সুইচ অফ করে রাখুন। একদম শূন্য চার্জে ফেলে রাখা বিপজ্জনক। ৩. তাপমাত্রা: খুব গরম বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ফোন রাখবেন না। সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে এমন জায়গায় ফোন রাখা মানেই বিস্ফোরণকে আমন্ত্রণ জানানো। ৪. রিসাইক্লিং: যদি ফোনটি আর ব্যবহারযোগ্য না হয়, তবে কোনো স্বীকৃত রিসাইক্লিং সেন্টারে জমা দিন। ৫. চার্জার খুলে রাখুন: পুরনো ফোন প্লাগে লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখবেন না।