AC-র গ্যাস শেষ, মেকানিকের এক কথায় বিশ্বাস করবেন না, জানুন কি করবেন?

চৈত্র আসার আগেই জানান দিচ্ছে গরম। আর গরম বাড়লেই কদর বাড়ে এসির। কিন্তু এসি সার্ভিসিং করতে গেলেই অধিকাংশ গৃহস্থের যে সাধারণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো— “স্যার, এসির গ্যাস তো শেষ, রিফিল করতে হবে!” মিস্ত্রির মুখে এই কথা শুনেই কপালে ভাঁজ পড়ে সাধারণ মানুষের। কিন্তু সত্যিই কি প্রতি বছর এসির গ্যাস ফুরিয়ে যায়?
বিজ্ঞান বলছে, এসির গ্যাস কোনো জ্বালানি নয় যে তা ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ফুরিয়ে যাবে। যদি কোথাও লিক না থাকে, তবে একটি এসির গ্যাস বছরের পর বছর চলতে পারে। তাই টেকনিশিয়ানের কথায় পকেট খালি করার আগে নিজে হয়ে উঠুন স্মার্ট।
কীভাবে বুঝবেন টেকনিশিয়ান মিথ্যে বলছেন না তো?
-
কুলিং টেস্ট: সার্ভিসিং করার আগে এসি চালিয়ে দেখুন ঘর ঠান্ডা হচ্ছে কি না। যদি এসি স্বাভাবিক ঠান্ডা দেয়, তবে বুঝবেন গ্যাস একদম ঠিক আছে। গ্যাস কমলে এসির কুলিং ক্ষমতা আমূল কমে যায়।
-
বরফ জমার রহস্য: ইনডোর ইউনিটের কয়েলে কি সাদা বরফ জমছে? যদি দেখেন পাইপ বা কয়েলে বরফ জমে পাথর হয়ে আছে, তবে বুঝতে হবে গ্যাসের প্রেশার কমে গেছে। বাতাসের আর্দ্রতা জমে এমনটা হয়।
-
তেলের দাগ খুঁজুন: এসির গ্যাসের সঙ্গে এক ধরণের বিশেষ তেল থাকে। যদি কোথাও লিক হয়, গ্যাস উড়ে গেলেও তেল পাইপের গায়ে লেগে থাকে। আউটডোর ইউনিটের পাইপে আঠালো তেলের দাগ দেখলে বুঝবেন সত্যিই লিক হয়েছে।
-
মাস্টার ট্রিক ‘বাবল টেস্ট’: মিস্ত্রি লিক আছে দাবি করলে তাঁকে বলুন সাবান জল দিয়ে পরীক্ষা করতে। পাইপের জয়েন্টে সাবানের ফেনা লাগালে যদি বুদবুদ ওঠে, তবেই বুঝবেন গ্যাস বেরোচ্ছে। বুদবুদ না থাকলে বুঝবেন আপনার পকেট কাটার ফন্দি করা হচ্ছে!
সতর্কবার্তা: মনে রাখবেন, লিক না সারিয়ে বারবার গ্যাস ভরা মানেই অর্থের অপচয়। সচেতন থাকলে যেমন এসির আয়ু বাড়বে, তেমনি অসাধু মিস্ত্রিদের জালিয়াতি থেকেও বাঁচবেন আপনি।