বিরল খনিজে চীন নির্ভরতা কমাতে ভারতের নতুন পথ কতটা মসৃণ? জেনেনিন বিস্তারিত

স্মার্টফোন, ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—সবকিছুরই প্রাণভোমরা হলো ‘রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট’ বা বিরল খনিজ চুম্বক। বর্তমানে এই খাতের বিশ্ববাজার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে চীন। তবে এই একাধিপত্য ভাঙতে এবং চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বনির্ভর হতে ৭,৩০০ কোটি রুপির এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতকে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনীয় চুম্বক ও কাঁচামালের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই চীন থেকে আমদানি করে। গত বছর বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে চীন রপ্তানি কমিয়ে দিলে বিপাকে পড়ে ভারতের ইভি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্প। সেই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়েই ভারত সরকার আগামী সাত বছরের মধ্যে বার্ষিক ৬,০০০ টন স্থায়ী চুম্বক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নির্বাচিত উৎপাদকদের মূলধন ও বিক্রিভিত্তিক আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায় দিল্লি।

তবে এই পথ মোটেও মসৃণ নয়। বিরল খনিজ উত্তোলনে ভারত বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও (৮ শতাংশ মজুত) প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতায় চীন বা জাপানের তুলনায় ভারত অনেকটাই পিছিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টাকা বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মী। ভারতের হাতে ‘নিওডাইমিয়াম’-এর মতো উপাদানের মজুত থাকলেও উচ্চমানের চুম্বক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ডিসপ্রোসিয়াম’ ও ‘টার্বিয়াম’-এর মতো ভারী উপাদানের অভাব রয়েছে।

চীনের আধিপত্য কমানোর এই লড়াইয়ে ভারত একা নয়; ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়াও একই পথে হাঁটছে। ভারতের ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’ গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা আইআরইএল-এর রপ্তানি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত এবার দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তবে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও তা ভারতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট হবে কি না এবং কাঁচামালের জন্য শেষ পর্যন্ত চীনের মুখাপেক্ষী হতে হবে কি না—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।