Google -এআই স্মার্ট গ্লাসে বদলে যাবে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ব্যবহার, জেনেনিন বিস্তারিত

দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করতে নতুন প্রজন্ম এবং উন্নত এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তি নিয়ে স্মার্ট গ্লাসের বাজারে ফিরছে গুগল। মোবাইল হাতে না নিয়েই আবহাওয়ার তথ্য জানা, নেভিগেশন নির্দেশ দেখা, নোট লেখা, অনুবাদ করা কিংবা ছবি-ভিডিও ধারণ—সবই হবে শুধু ভয়েস কমান্ডে। চশমায় থাকা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার কথা বুঝে সরাসরি জানিয়ে দেবে প্রয়োজনীয় তথ্য।

গত সপ্তাহে ‘দ্য অ্যান্ড্রয়েড শো, এক্স আর এডিশন’ অনুষ্ঠানে গুগলের এই ওয়্যারেবল ডিভাইসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬ সালেই এটি বাজারে আসবে বলে জানা গেছে।

🧠 কেন এবার সফল হবে গুগল?

প্রায় এক দশক আগে গুগল স্মার্ট গ্লাস বাজারে আনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে সময় এআই প্রযুক্তি পরিপক্ব না হওয়ায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। এবার উন্নত জেনারেটিভ এআই (যেমন জেমিনি) যুক্ত করে নতুনভাবে এই বাজারে ফিরছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল থেকে এআই ওয়্যারেবলস বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যাবে। গুগল মূলত মেটা (Meta) এবং অ্যাপলের (Apple) মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে টিকে থাকতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে স্যামসাং, ফ্যাশন আইওয়্যার ব্র্যান্ড জেন্টল মনস্টার ও ওয়ারবি পার্কারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি। হার্ডওয়্যার উন্নয়নে গুগল এরই মধ্যে ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

👓 দুই ধরনের স্মার্ট গ্লাস আনছে গুগল

গুগল জানিয়েছে, তাদের নতুন স্মার্ট গ্লাস তৈরি হবে হেডসেট অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর-এর ওপর ভিত্তি করে। লক্ষ্য—দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী, হালকা, স্টাইলিশ ও সারাদিন পরে থাকা যায় এমন এআই সক্ষম গ্লাস বাজারে আনা।

প্রথম পর্যায়ে দুটি ভিন্ন ধরনের এআই স্মার্ট গ্লাস বাজারে আসবে:

১. স্ট্যান্ডার্ড এআই স্মার্ট গ্লাস: * এতে থাকবে বিল্ট-ইন স্পিকার, মাইক্রোফোন এবং ক্যামেরা। * জেমিনি এআই-এর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা যাবে। * ছবি তোলা, ভয়েস কমান্ডে বিভিন্ন কাজ করা থাকবে অন্তর্ভুক্ত।

২. ইন-লেন্স ডিসপ্লে ভার্সন (In-Lens Display Version): * এই মডেলে লেন্সের ভেতরেই ডিসপ্লে থাকবে। * চোখের সামনে সরাসরি প্রয়োজনীয় তথ্য ভেসে উঠবে। * টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, রিয়েল-টাইম অনুবাদসহ নানা তথ্য ব্যবহারকারী দেখতে পাবেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে।

এছাড়াও, গুগল ওয়্যারড এক্সআর গ্লাসেস-এর ওপর কাজ করছে, যা হেডসেটের মতো ইমারসিভ অভিজ্ঞতা দিলেও বাস্তব পরিবেশ থেকে ব্যবহারকারীকে বিচ্ছিন্ন করবে না।