আপনার হাতের ফোনটি রিফার্বিশড কিনা বুঝবেন যেভাবে, জেনেনিন কয়েকটি লক্ষণ

অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনতে গেলে অনেক সময় নতুন দেখালেও সেটি আসলে রিফার্বিশড হতে পারে এবং সেটা বোঝা সবসময় সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিফার্বিশড ফোন খারাপ নয়, তবে, সমস্যা তৈরি হয় যখন কোনো ডিভাইসকে নতুন বলে বিক্রি করা হয় বা কে রিফার্বিশ করেছে সেটি জানা না যায়।

একটি সার্টিফায়েড রিফার্বিশড ফোন সাধারণত প্রস্তুতকারক কোম্পানি বা অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার একেবারে নতুন অবস্থায় ফিরিয়ে আনে, যেখানে ব্যবহার করা হয় অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার পার্টস, করা হয় পারফরমেন্স টেস্টিং, এবং দেওয়া হয় ওয়ারেন্টি।

অন্যদিকে, অননুমোদিতভাবে রিফার্বিশড ফোন, যা যে কেউ লোকাল মার্কেট থেকে পার্টস এনে বা ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে ঠিক করে দিতে পারে, সেখানে এই নিশ্চয়তাগুলো থাকে না। বাইরে থেকে দেখতে ভালো হলেও ভেতরে নিম্নমানের বা ভুল পার্টস ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রিফার্বিশড ফোন চিহ্নিত করার কিছু উপায়

ফোনটি রিফার্বিশড কি না বুঝতে প্রথমেই যে চেকটি করতে বলা হয় সেটি হলো আইএমইআই নম্বর মিলিয়ে দেখা। ফোন অ্যাপে *#06# ডায়াল করলে যে আইএমইআই দেখায় সেটি ফোনের সেটিংসের ‘অ্যাবাউট ফোন’-এ থাকা আইএমইআই-এর সঙ্গে মিলতে হবে।

যদি দুটি নম্বর না মেলে ধরে নিতে হবে ডিভাইসটি ‘টেম্পার’ করা হয়েছে। একইভাবে ফোনের বক্সে থাকা আইএমইআই নম্বরের সঙ্গে ডিভাইসের আইএমইআই মিলিয়ে দেখলেও জানা যায় কোনো ‘মিসম্যাচ’ আছে কি না।

পাশাপাশি ব্যাটারি হেলথ দেখে বোঝা যায় ডিভাইসটি আগে ব্যবহার হয়েছে কিনা কারণ নতুন ফোনে সাধারণত ব্যাটারি হেলথ ১০০ শতাংশ থাকে। যদিও কিছু প্রিমিয়াম রিফার্বিশার ব্যাটারি পরিবর্তন করে দেয় তারপরও এটি মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে শুধু সফটওয়্যার চেক নয়, ডিভাইসের ফিজিক্যাল কন্ডিশনও অনেক তথ্য জানিয়ে দেয়। অনেকে এখন খুব দক্ষতার সঙ্গে রিফার্বিশ করে বলে বাহ্যিক দাগ দেখা যায় না কিন্তু হালকা স্ক্র্যাচ, ছোট ডেন্ট, অথবা স্ক্রিনের রঙে অস্বাভাবিকতা বা পিক্সেলেশন এসবই ইঙ্গিত দেয় পার্টস পরিবর্তন হয়েছে বা ডিভাইস আগে ব্যবহৃত হয়েছে।

যে কারণে রিফার্বিশড ফোন কেনা উচিত নয়

রিফার্বিশড ফোন কেনা সবসময়ই খারাপ সিদ্ধান্ত নয়। তবে, ঝুঁকিগুলো আসে অননুমোদিত রিফার্বিশিং থেকে। কারণ, এটি কোনো নিয়ন্ত্রিত বা মানসম্মত প্রক্রিয়া নয়। ফলে ভিন্ন বিক্রেতা ভিন্ন মানদণ্ডে কাজ করে, কেউ আবার মোটেও কোনো মানদণ্ড মানে না।

‘রিফার্বিশড’ ট্যাগ লাগানো ফোনটি কতদিন ব্যবহার হয়েছে, পানি ঢুকেছিল কি না, একাধিকবার মেরামত করা হয়েছে কি না এসব কিছু সম্পূর্ণ অজানা থাকতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অননুমোদিত রিফার্বিশড ফোনে সাধারণত ওয়ারেন্টি থাকে না। ফলে, যে কোনো ভবিষ্যৎ মেরামতের খরচ ব্যবহারকারীকেই বহন করতে হয়।

প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, নন-অরিজিনাল বা ‘জেনেরিক’ পার্টস ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে দিতে পারে, অতিরিক্ত গরম করতে পারে কিংবা দীর্ঘমেয়াদে সফটওয়্যার গ্লিচ তৈরি করে ডিভাইসকে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে দিতে পারে। তাই ফোন কেনার সময় নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে ডিভাইসটি নতুন কি না অথবা যদি রিফার্বিশড হয় তবে সেটি যেন সার্টিফায়েড রিফার্বিশড এবং টেস্টিং রিপোর্ট ও ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা থাকে।