১৬-এর কম হলে সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ চায় ইইউ পার্লামেন্ট, জেনেনিন বিস্তারিত

শিশু ও টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধির কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর রাশ টানতে চলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের প্রবেশের জন্য একটি ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হোক।

এই আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চলেছে। পাশাপাশি ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়াও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করছে।

কী চাইছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট?

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই প্রস্তাবটি বিপুল ভোটের (৪৪৩ ভোটের সমর্থনে, ৯২ জনের বিরোধিতা) মাধ্যমে পাশ করেছে। তাদের মূল দাবিগুলি হলো:

১. ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য: সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক। ২. ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য: মা-বাবার অনুমতি ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও শেয়ারিং সাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারের অনুমতি যেন না দেওয়া হয়। ৩. ‘লুট বক্স’ নিষিদ্ধ: অর্থ দিয়ে কেনা যায় বা জেতা যায় এমন ভার্চুয়াল পণ্য (লুট বক্স) শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ করা হোক। ৪. অ্যালগরিদম বন্ধ: শিশুদের জন্য এই ধরনের সাজেশন অ্যালগরিদম বন্ধ করা হোক এবং বয়স অনুসারে উপযোগী কনটেন্ট তৈরিতে আইন প্রণয়ন করা হোক।

‘আমেরিকান ও চীনা প্রযুক্তির পরীক্ষা’

প্রস্তাবটির প্রধান উদ্যোক্তা ডেনিশ আইনপ্রণেতা ক্রিস্টেল শালডেমোস এই পরিস্থিতিকে ‘পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক পরীক্ষার মধ্যে রয়েছি, যেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই আমেরিকান ও চীনা বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিদিন আমাদের শিশু ও টিনএজারদের মনোযোগ প্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সীমাহীনভাবে ব্যবহার করে চলেছে।”

তিনি সরাসরি এই পরীক্ষার কারিগর হিসেবে এক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক, মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম)-এর প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও তাদের প্রযুক্তি শাখা টিকটকের দিকে আঙুল তুলেছেন।

বিশ্বজুড়ে মামলার মুখে টেক-জায়ান্টরা

শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও একই ধরনের খবর আসছে—মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরিতে ভূমিকা রাখার জন্য বর্তমানে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, গুগল এবং মেটা (Facebook, Instagram)-কে মামলার মুখে পড়তে হচ্ছে।

শালডেমোস স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, “এ রিপোর্টের মাধ্যমে অবশেষে আমরা একটি সীমারেখা টেনেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে বলছি, ‘আপনাদের সেবা শিশুদের জন্য তৈরি নয় এবং এই এক্সপেরিমেন্ট যেন এখানেই শেষ হয়।’

যদিও ইইউ-এর প্রতিটি সদস্য দেশেরই নিজ দেশে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের ক্ষমতা রয়েছে, তবুও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই আহ্বান ইইউ দেশগুলিতে কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে।