ATM-কার্ড ক্লোনিং থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন, জেনেনিন বিশেষ কিছু টিপস

সাম্প্রতিক সময়ে এটিএম কার্ড ক্লোনিং প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ কার্ড ব্যবহারকারীরা। সাইবার অপরাধীরা ‘স্কিমার’ (Skimmer) নামক ডিভাইস, অনলাইন স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে আপনার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের সমস্ত তথ্য কপি করে একটি ডুপ্লিকেট কার্ড তৈরি করছে। এরপর আপনার অনুমোদন ছাড়াই সেই জাল কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করে আপনার অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিচ্ছে।
এই অপরাধটিকে আরও জটিল করে তোলে ক্লোন করা কার্ডটির ‘আসল’ দেখানোর বিষয়টি—এটি আসলটির মতোই কাজ করে। সাধারণত, যখন কার্ডহোল্ডাররা কোনো অজানা লেনদেনের এসএমএস অ্যালার্ট পান বা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হতে দেখেন, তখনই জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারেন।
🕵️ প্রতারকরা যেভাবে আপনার কার্ড ক্লোন করছে:
১. এটিএম স্কিমিং: এটিএম মেশিনে গোপনে বসানো ছোট ডিভাইস (স্কিমার) ব্যবহার করে আপনার কার্ডের বিবরণ এবং পিন চুরি করা হয়। অনেকে আপনার পিন রেকর্ড করার জন্য লুকানো ক্যামেরাও ব্যবহার করে। ২. রেস্তোরাঁয় স্কিমিং: রেস্তোরাঁ বা পেট্রোল পাম্পে পেমেন্টের সময় আপনার কার্ডটি গোপনে দুবার সোয়াইপ করা হতে পারে—একবার পেমেন্টের জন্য, আর একবার স্কিমার ডিভাইসে ডেটা চুরির জন্য। ৩. অনলাইন ফিশিং: প্রতারকরা ভুয়া ইমেল বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার কার্ডের বিবরণ জানতে চায়, যা পরে অনলাইন কেনাকাটায় অপব্যবহার করা হয়। ৪. ডিজিটাল ক্লোনিং: আপনার কার্ডের চুরি করা বিবরণ কোনো ফিজিক্যাল কার্ড তৈরি না করেই সরাসরি অনলাইন পেমেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়।
বিশেষ তথ্য: চিপ-ভিত্তিক কার্ডের তুলনায় চৌম্বকীয় স্ট্রাইপযুক্ত কার্ডগুলো ক্লোন করা সহজ, কারণ চিপ কার্ডগুলোতে প্রতিটি লেনদেনে একটি নতুন কোড তৈরি হয়, যা ক্লোনিংকে আরও কঠিন করে।
✅ নিজেকে রক্ষা করার ৫টি কার্যকরী কৌশল:
১. অনলাইন পেমেন্টের জন্য ভার্চুয়াল কার্ড: অনলাইন কেনাকাটার জন্য অস্থায়ী ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার করুন। প্রতিটি ব্যবহারের পর কার্ডের বিবরণ পরিবর্তন হওয়ায় এগুলো নিরাপদ।
২. এটিএম ও দোকানে সতর্ক থাকুন: অপরিচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত মেশিনে কার্ড সোয়াইপ করা থেকে বিরত থাকুন। লেনদেনের সময় মেশিনের দিকে সতর্ক নজর রাখুন। কোনো সন্দেহজনক ডিভাইস বা ক্যামেরা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করুন।
৩. এসএমএস ও ইমেল অ্যালার্ট চালু রাখুন: আপনার প্রতিটি লেনদেনের জন্য যেন সাথে সাথে এসএমএস বা ইমেল অ্যালার্ট আসে, সেই ব্যবস্থা চালু রাখুন। এতে সন্দেহজনক লেনদেন হলে আপনি দ্রুত জানতে পারবেন।
৪. পিন ঢেকে রাখুন: এটিএম বা পস (PoS) মেশিনে পিন দেওয়ার সময় সবসময় কীপ্যাডটি হাত দিয়ে বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে লুকানো ক্যামেরায় তা রেকর্ড না হয়।
৫. চিপ-ভিত্তিক কার্ড ব্যবহার করুন: আপনার কার্ড যদি চৌম্বকীয় স্ট্রাইপের হয়, তবে সেটি পরিবর্তন করে একটি চিপ-ভিত্তিক কার্ড ব্যবহার করুন, যা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষিত।