অনলাইন জগতে সহনশীল হ‌ওয়ার কৌশল, জেনেনিন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবেন কিভাবে?

আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, ভিডিও কল বা বন্ধুদের স্ট্যাটাস দেখা—সবই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অংশ। তবে এই গতিশীলতার সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি ‘হেট স্পিচ’, ‘ট্রোলিং’, ‘বুলিং’ এবং ‘অপপ্রচার’-এর মতো মারাত্মক সমস্যাগুলির সঙ্গে। এই ডিজিটাল বিষাক্ততা মোকাবিলায় আজকের দিনে অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে আমাদের জানতে হবে ডিজিটাল সহনশীলতা বা ‘নেটিকেট’ (Netiquette) মেনে চলার উপায়গুলি।

অনলাইন বিশ্বের পরিবেশকে নিরাপদ, মানবিক এবং সুন্দর করে তুলতে কীভাবে আমরা নেটিকেট মেনে চলতে পারি?

১. অন্যের অনুভূতিকে সম্মান দিন, নীরবতা হোক আপনার হাতিয়ার

 

ডিজিটাল সহনশীলতার মূল ভিত্তি হলো অন্যের অনুভূতিকে সম্মানের চোখে দেখা। আপনার রাগ বা বিরক্তি থাকলেও, অনলাইনে এমনভাবে আচরণ করা উচিত নয় যাতে তা বিতর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে (আগুনে ঘি ঢালার মতো)। সহনশীল ব্যবহার মানে মন্তব্যের আগে এক মুহূর্ত থেমে ভাবা, এবং প্রয়োজনে নীরব থাকা। কোনো সমস্যাজনক পোস্ট দেখলে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে রিপোর্ট করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. মন্তব্য করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন

 

অনলাইনে কিছু লেখার আগে নিজেকে দুটি প্রশ্ন করা জরুরি: ‘এই কথাটি কি কারো অনুভূতিতে আঘাত আনতে পারে?’ অথবা ‘আমি কি আরও ভদ্রভাবে বলতে পারি?’ আপনার প্রতিটি পোস্ট, কমেন্ট বা শেয়ার অন্যের মনোভাব ও মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। সতর্কভাবে ও ভদ্রভাবে মত প্রকাশ করাই অনলাইনে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৩. ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সবার আগে

 

ডিজিটাল সহনশীলতা মানে শুধু ভদ্র আচরণ নয়, নিরাপদ অনলাইন ব্যবহার নিশ্চিত করাও এর অংশ। আপনি প্রতিদিন ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা অবস্থান শেয়ার করছেন। অসতর্ক হলে আপনার এবং অন্যের অনলাইন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো, ভুয়া খবর যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট রিপোর্ট বা ব্লক করা জরুরি।

৪. ভিন্নমতকে সম্মান দিন, বিতর্ক এড়িয়ে চলুন

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্ন সংস্কৃতি, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বিশ্বাস নিয়ে বহু মানুষ আসে। সবাই যে একরকম মত পোষণ করবে, এমনটা সম্ভব নয়। সহনশীল ব্যবহার মানে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তাদের সম্মান করা। আপনাকে তাদের মতামত গ্রহণ করতে হবে না, তবে মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলাই মানসিক শান্তি এবং সুস্থ অনলাইন কমিউনিটি তৈরির চাবিকাঠি।

৫. ট্রোলিং ও বুলিং প্রতিরোধে ধৈর্য ধরুন

 

অনলাইনে ট্রোলিং বা বুলিংয়ের শিকার হওয়া নিত্যদিনের বিষয়। উত্তেজিত হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। সহনশীল ব্যবহার মানে ধৈর্য ধরে নিরব থাকা, বিরক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনে রিপোর্ট করার ক্ষমতা রাখা। মনে রাখবেন, কখনো কখনো কোনো বিষয় এড়ানো বা নিরব থাকা আপনার সেরা প্রতিবাদ হতে পারে।

আজ আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস। এই দিন থেকেই আমরা শুরু করতে পারি অনলাইনের সহনশীলতা। কেননা অনলাইনে প্রতিটি ক্লিকের জন্য আমরা দায়িত্বশীল এবং আমাদের প্রতিটি মন্তব্য পুরো অনলাইন কমিউনিটিকে প্রভাবিত করে।