AI-ব্যবহার না জানলে কর্মীর চাকরি থাকবে না, বড় হুঁশিয়ারি মেটার

বর্তমান প্রযুক্তির দুনিয়া যে দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইমুখী হচ্ছে, তার প্রমাণ দিচ্ছে মেটা (Meta)। যুগ বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবার কোম্পানিটি তার পুরো কর্মীবাহিনীর জন্য এক চরম বার্তা দিয়েছে—চাকরিতে টিকে থাকতে হলে, উন্নতি করতে হলে, এমনকি প্রতিদিনের কাজে পারফর্ম করতে হলেও এআই ব্যবহার আর বিকল্প নয়, বরং বাধ্যতামূলক বাস্তবতা!
মেটার অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সময় তাদের এআই-দক্ষতা ও এআই ব্যবহারের প্রভাব সরাসরি বিবেচনায় নেওয়া হবে। শুধু কাজ করা নয়, কাজ কীভাবে আরও দ্রুত, আরও উন্নতভাবে করা হলো এবং সেখানে এআই কীভাবে সাহায্য করল—সবটাই হবে মূল্যায়নের অংশ। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে মার্কেটিং, ডিজাইনসহ প্রতিটি বিভাগকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা কীভাবে এআই ব্যবহার করে নিজেদের কর্ম-প্রক্রিয়া উন্নত করেছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে।
🏭 ‘সুপার-ইনটেলিজেন্ট ল্যাব’ ও ছাঁটাইয়ের কোপ
এআই-এর দিকে আগ্রাসীভাবে এগোতে মেটা ইতিমধ্যেই বৃহৎ আকারে এআই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্ট ল্যাবস’ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করেছে, যেখানে তারা এমন ধরনের উন্নত এআই নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের সমান বা তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হতে পারে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে, মেটা ধীরে ধীরে অটোমেশনের মাধ্যমে এমন কিছু ভূমিকা বাদ দিচ্ছে, যা এআই দিয়ে সহজেই পরিচালনা সম্ভব। এই কারণেই কোম্পানির বিভিন্ন ইউনিটে ছাঁটাইও হয়েছে।
💬 কর্মীর রিভিউ লিখছে ‘মেটামেট’!
মেটার অভ্যন্তরে ব্যবহৃত এআই টুল ‘মেটামেট’ এরই মধ্যে কর্মীদের পারফরম্যান্স রিভিউ লেখায় সহায়তা করছে। এই টুল কর্মীর কাজ, প্রোজেক্ট এবং ডকুমেন্টেশনের সারাংশ তৈরি করে দেয়। যদিও কিছু কর্মী এর নির্ভুলতা নিয়ে এখনও সন্দিহান, কিন্তু কোম্পানির বার্তাটা স্পষ্ট—এআই ব্যবহার শিখতে হবে, কাজে লাগাতে হবে এবং এটিকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
🛡️ গ্রাহক সুরক্ষা বিতর্ক
এই অগ্রগতি অবশ্য বিতর্কহীন নয়। গত বছর মেটার এআই চ্যাটবট কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে অশালীন কথোপকথন করেছে—এমন অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল কোম্পানিটি। এরপরেই মেটা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী সীমাবদ্ধতা আরোপ করে এবং ভবিষ্যতে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মেটার পুরো রূপকল্পই এখন একবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে—এআই। তাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি উন্নয়ন নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি বিভাগ ও কর্মীর কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা। ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে দ্রুত পরিবর্তন আনতে এটাই মার্ক জাকারবার্গের সবচেয়ে বড় বাজি।