“আকাশে উড়ছে শত্রুর ড্রোন!”-জেনেনিন সিগনাল ব্লক ও ধ্বংস করার নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে?

ভিডিওগ্রাফি, ডেলিভারি, সার্ভেইল্যান্স (নজরদারি) থেকে শুরু করে সামরিক কাজ—নিয়ন্ত্রিত বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে পারা পাইলটবিহীন যান ড্রোন-এর ব্যবহার বর্তমানে বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু এর উল্টো দিকেই বাড়ছে সুরক্ষার ঝুঁকি। কারণ, সব ড্রোনই বন্ধুভাবাপন্ন নয়। ফলে অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা এখন বিশ্বজুড়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।
ড্রোন শনাক্ত এবং সংকেত ব্লক করার কৌশল
ডেনমার্কের অ্যালবোর্গের ‘মাইডিফেন্স’ নামের একটি কোম্পানি এমন যন্ত্র তৈরি করছে, যা ড্রোনের সংকেত ব্লক করে এবং ড্রোনকে কোনো অঞ্চলের বাইরে ঠেলে দিতে পারে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ড্যান হারমানসেন বলেছেন, সামরিক সংস্থা ছাড়াও সাধারণ গ্রাহক এবং বড় কোম্পানিগুলো এখন তাদের মূল্যবান সম্পদ রক্ষা করতে এই যন্ত্র কিনছে।
এই যন্ত্রের কার্যকারিতা অত্যন্ত সহজ:
১. যন্ত্রটি ড্রোন এবং তার চালকের মধ্যে সংযোগ শনাক্ত করে।
২. একই ফ্রিকোয়েন্সিতে শক্তিশালী রেডিও সিগনাল ছেড়ে সেই সংযোগ বন্ধ করে দেয়।
হারমানসেন বলেছেন, তাদের প্রযুক্তি ড্রোনকে আকাশে ধ্বংস না করে, বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে নেমে আসার জন্য দূরে ঠেলে দেয়। তিনি মনে করেন, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামিং প্রযুক্তি $৮০$ থেকে $৯০$ শতাংশ কার্যকরভাবে উড়ন্ত ড্রোনকে থামাতে পারে। তবে এই সংকেত-ব্লকিং যন্ত্রগুলো সাধারণত পুলিশ ও প্রতিরক্ষা সংস্থার মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্যবহার করা হয়।
চ্যালেঞ্জ: রাডারে ধরা না পড়া ‘ছোট’ ড্রোন
ড্রোন শনাক্ত করা সহজ নয়। ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ডেনমার্ক’-এর ক্যাসপার হ্যালেনবার্গ বলেছেন, “প্রথম ধাপটি হচ্ছে, ড্রোন শনাক্তকরণ। আর দ্বিতীয় ধাপটি ড্রোনকে আটকানো।”
ড্যানিশ ডিফেন্স অ্যাকাডেমির গবেষণা প্রধান আন্দ্রেয়াস গ্রায়ে জানিয়েছেন, ড্রোনগুলো প্লাস্টিক বা কাপড়ের মতো উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, যা রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। তাই শনাক্তকরণের জন্য শব্দ সেন্সর, উন্নত অপটিক্যাল ক্যামেরা ও আধুনিক ট্যাকটিক্যাল রাডার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ড্রোন আর পাখির মধ্যে পার্থক্যও বুঝতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নতুন কৌশল
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন-রোধী সংকেত-জ্যামিং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি হয়েছে। গ্রায়ে বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র এমনভাবে ‘জ্যাম’ থাকে যে ড্রোন চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
এর ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেন এমন ড্রোন ব্যবহার করছে, যা জ্যামিংয়ের মধ্যেও কাজ করতে পারে—যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে পারা বা আগে থেকে প্রোগ্রাম করা পথ অনুসরণ করা ড্রোন। এ ধরনের ড্রোনকে নিষ্ক্রিয় করতে এখন গুলি করে নামানো বা ধ্বংস করার নতুন পদ্ধতি তৈরি হচ্ছে। সুইডিশ স্টার্টআপ ‘নর্ডিক এয়ার ডিফেন্স’ কম খরচের ‘ইন্টারসেপ্টর’ তৈরি করছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দ্রুত চলে এবং টার্গেট করা ড্রোনকে ধ্বংস করতে পারে।
খরচের বৈষম্য
নেটো-এর সাধারণ সম্পাদক মার্ক রুটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন: “এক বা দুই হাজার ডলারের ড্রোনকে এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে, যার দাম কয়েক লাখ, এমনকি ১০ লাখ ডলার। বিষয়টি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
কম খরচে ড্রোন ঠেকানোর নতুন প্রযুক্তি তৈরিই এখন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির মূল লক্ষ্য।