“৫০,০০০ কোটি ডলারের কোম্পানিও বিপদে!”-AI বুদবুদ ফেটে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি নিয়ে যে প্রবল উত্তেজনা চলছে, তার ফলে বাজারে তৈরি হওয়া ‘এআই বুদবুদ’ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড’ (Bank of England)।

ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে ‘আকস্মিক পতনের’ (Sudden Collapse) ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন এআইভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক বাড়তে থাকা মূল্যায়ন এখন উদ্বেগের জোরালো কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রকেট গতিতে বেড়েছে কোম্পানির দাম
এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে অবিরত আশাবাদ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে বিভিন্ন এআই কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধিতে ‘রকেট গতি’ যোগ করেছে। যেমন:

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের (OpenAI) দাম গত বছরের অক্টোবর মাসে ছিল ১৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে তা আকাশ ছুঁয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আরেক এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক (Anthropic)-এর দাম গত মার্চ মাসের প্রায় ৬ হাজার কোটি থেকে প্রায় তিনগুণ বেড়ে গত মাসে হয়েছে ১৭ হাজার কোটি ডলার।

‘অতিরিক্ত প্রত্যাশা’ নিয়েই আসল উদ্বেগ
বুধবার ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডের ‘ফাইন্যান্সিয়াল পলিসি কমিটি’ (FPC) সতর্ক করে বলেছে, “বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি হচ্ছে, কোম্পানিগুলোর দাম অনেক বেড়েছে। ফলে বাজারে খুব দ্রুত ও বড় ধরনের দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”

এফপিসি আরও বলেছে, এআইনির্ভর বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের মূল্যায়ন বর্তমানে অনেকটাই বেশি। এই অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে শেয়ারবাজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যদি এআইয়ের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশায় ফাটল ধরে, তবে বাজারে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

গবেষণায় ফাটল: সম্প্রতি এমআইটি’র (MIT) গবেষণায় উঠে এসেছে, ৯৫ শতাংশ কোম্পানিই জেনারেটিভ এআইতে করা বিনিয়োগ থেকে কোনো লাভ পাচ্ছে না। এই তথ্য এআইনির্ভর অর্থনৈতিক উচ্ছ্বাসের ওপর মানুষের আস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড বলেছে, বিনিয়োগকারীরা এখনও এসব সম্ভাব্য ঝুঁকিকে পুরোপুরি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এসব ঝুঁকি বাস্তবে পরিণত হলে তা ‘বাজারে আকস্মিক পতন ঘটাতে পারে’, যার ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসা উভয়ের জন্যই অর্থায়ন বা ঋণের প্রবাহ কমে যাবে।

ট্রাম্পের হুমকি এবং ডলারের ঝুঁকি
ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সতর্কতা এমন সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর সমালোচনা করছেন এবং তাদের স্বাধীনতা কমানোর হুমকি দিচ্ছেন।

নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি যদি গোটা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস কমে যায়, তাহলে ‘মার্কিন ডলারের দামে হঠাৎ করেই ধস নামতে পারে’, যা বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এফপিসি যোগ করেছে, এমন কোনো বৈশ্বিক ধাক্কার প্রভাব যুক্তরাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও ব্যাপকভাবে পড়তে পারে।