মিল্কি ওয়ের সর্পিল বাহুর প্রভাব রয়েছে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশে? কি বলছে গবেষকরা?

বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণা বলছে, পৃথিবীর ভূত্বকের গঠনের পেছনে কেবল অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক কারণই নয়, বরং আমাদের সৌরজগতের মহাজাগতিক যাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ‘কার্টিন ইউনিভার্সিটি’-র একদল বিজ্ঞানী ‘জিরকন’ নামক প্রাচীন স্ফটিক পরীক্ষা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। এই গবেষণা প্রমাণ করছে যে, পৃথিবীর ভূত্বক তৈরি হয়েছে আমাদের মিল্কি ওয়ে ছায়াপথের সর্পিল বাহুগুলির সঙ্গে সংঘর্ষের ফলস্বরূপ।
গবেষণায় দেখা গেছে, জিরকন স্ফটিকে যে রাসায়নিক পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, তার সময়কাল ঠিক সেই সময়ের সঙ্গে মিলে যায় যখন আমাদের সৌরজগৎ মিল্কি ওয়ের সর্পিল বাহুগুলির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। এই সর্পিল বাহুগুলি মূলত ঘন তারা, ধূলিকণা ও গ্যাস দিয়ে তৈরি। গবেষকরা বলছেন, এই ভ্রমণের সময় ছায়াপথের মহাকর্ষীয় শক্তি আশেপাশে থাকা বরফের ধূমকেতুগুলোকে পৃথিবীর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই ধূমকেতুগুলো পৃথিবীতে এসে যখন আছড়ে পড়েছে, তখন এর ফলে প্রচণ্ড শক্তির বিস্ফোরণ হয়েছে।
অধ্যাপক ক্রিস কার্কল্যান্ড, এই গবেষণার প্রধান, বলেছেন যে মহাজাগতিক এই সংঘর্ষগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠকে গলিয়ে দিয়েছে এবং তার ফলে পৃথিবীর মহাদেশীয় ভূত্বকের গঠনের গতি বেড়েছে। এই নতুন ধারণাটি আগের সেই অনুমানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, যেখানে ভাবা হতো যে পৃথিবীর ভূত্বক শুধুমাত্র আগ্নেয়গিরি ও প্লেট টেকটোনিকসের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। এই গবেষণা ভূতত্ত্ব ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মধ্যে এক নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেছে, যা ‘অ্যাস্ট্রো-জিওলজি’ নামে একটি নতুন বিজ্ঞান শাখা তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, আমাদের মহাদেশগুলো শুধু ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তির ফল নয়, বরং তা আমাদের ছায়াপথের দেওয়া এক উপহার।