AI-স্টেথোস্কোপ মুহূর্তেই ধরা পড়বে জটিল রোগ, কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন! শত বছরের পুরোনো স্টেথোস্কোপের জায়গা নিতে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত আধুনিক স্টেথোস্কোপ। ব্রিটিশ গবেষকরা বলছেন, এই নতুন প্রযুক্তি হৃদরোগ নির্ণয়ে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে, যা চিকিৎসকদের কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ। এই অত্যাধুনিক স্টেথোস্কোপ সাধারণ মানুষের কান যা শুনতে পায় না, সেই সূক্ষ্ম তথ্যও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে রোগ শনাক্ত করতে পারে।

এআই স্টেথোস্কোপ কীভাবে কাজ করে?

প্রচলিত ধাতব স্টেথোস্কোপের চেয়ে এই নতুন যন্ত্রটি আকারে অনেক ছোট, দেখতে অনেকটা খেলনা তাসের মতো। এর মধ্যে থাকা সংবেদনশীল মাইক্রোফোন হৃদস্পন্দন এবং রক্তপ্রবাহের সূক্ষ্মতম পার্থক্যও ধরতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই এটি একটি ইসিজি (ECG) রেকর্ড করে এবং সেই ডেটা ক্লাউডে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে একটি শক্তিশালী এআই সিস্টেম হাজার হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক ফলাফল জানিয়ে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভুল।

 

যেসব রোগ শনাক্ত করা সম্ভব

 

গবেষকদের মতে, এআই স্টেথোস্কোপ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনটি গুরুতর হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারে:

  • হার্ট ফেলিওর
  • হার্ট ভালভের সমস্যা
  • অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন

 

গবেষণায় কী পাওয়া গেল?

 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং এনএইচএস-এর যৌথ গবেষণায় প্রায় ১২ হাজার রোগীর উপর এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ স্টেথোস্কোপের চেয়ে এই এআই স্টেথোস্কোপ অনেক বেশি কার্যকর:

  • হার্ট ফেলিওর শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২.৩৩ গুণ বেড়েছে।
  • অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন (যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়) শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩.৫ গুণ বেড়েছে।
  • হার্ট ভালভের রোগ ধরা পড়েছে ১.৯ গুণ বেশি।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্ডিওলজিস্ট ড. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, “এই উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি, কারণ অনেক সময় হৃদরোগ কেবল তখনই ধরা পড়ে যখন রোগী জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগটি যদি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা যায়, তবে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা সম্ভব। এর ফলে রোগীর জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হবে।”

এই নতুন প্রযুক্তির আগমনে চিকিৎসাবিজ্ঞান যে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এটি কেবল রোগ নির্ণয়কে সহজ করবে না, বরং রোগ ধরা পড়ার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।