আইফোন বানানো সেই ফক্সকন এবার এআইয়ে ‘বেশি মনোযোগী’, জেনেনিন কারণ?

আইফোন তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত তাইওয়ানের প্রযুক্তি জায়ান্ট ফক্সকন এখন নিজেদের ব্যবসার মূল ভিত্তি পরিবর্তন করছে। একসময় অ্যাপলের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এই কোম্পানিটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সার্ভার এবং ক্লাউড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ফক্সকনের আয়ের প্রধান উৎস এখন আর আইফোন নয়।

২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফক্সকনের শীর্ষ গ্রাহকের তালিকায় অ্যাপলকে ছাড়িয়ে গেছে এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তি সম্পর্কিত ব্যবসা। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র ফক্সকনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তাইওয়ানের পুরো প্রযুক্তি শিল্পে এক বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন এই পরিবর্তন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফক্সকন দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোন ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। প্রায় দুই দশক আগে আইফোন বাজারে আসার পর থেকে এর চাহিদা এখন ধীরে ধীরে কমছে। এই ঝুঁকি কমাতে ২০১৯ সালে ফক্সকনের চেয়ারম্যান ইয়াং লিউ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কোম্পানিটি এআই সার্ভার, ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) এবং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির মতো নতুন ব্যবসায় মনোযোগ দেন।

ইভি ও চিপ ব্যবসায় এখনও বড় লাভ না এলেও, এআই সার্ভার তৈরির ক্ষেত্রে ফক্সকন ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি জনপ্রিয় হওয়ার আগেই তারা এআই সার্ভার উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছিল। ফলস্বরূপ, ফক্সকন এখন এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় সার্ভার নির্মাতা হয়ে উঠেছে।

আয়ের চিত্রে পরিবর্তন

 

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ফক্সকনের আয়ের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে, ফক্সকনের মোট আয়ের ৪১ শতাংশ এসেছে ক্লাউড ও নেটওয়ার্কিং ব্যবসা থেকে, যার মধ্যে এআই সার্ভারও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ভোক্তা ইলেকট্রনিক পণ্য বা আইফোন থেকে আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। অথচ, ২০২১ সালেও এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৪ শতাংশ।

‘টিএফ ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ’-এর বিশ্লেষক মিং-চি কুও বলেন, ফক্সকন বহু বছর ধরেই এই খাতে কাজ করছে এবং উচ্চমানের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ২০০২ সাল থেকে এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য ডিজাইন তৈরি করা এবং ২০০৯ সাল থেকে ক্লাউড কোম্পানির ডেটা সেন্টারের জন্য সার্ভার তৈরি করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এখন তাদের এআই সার্ভারের সাফল্যে সাহায্য করছে।


পুরো শিল্পে পরিবর্তন

 

ফক্সকনের এই পরিবর্তন আসলে তাইওয়ানের পুরো প্রযুক্তি শিল্পেরই একটি বড় রূপান্তরের অংশ। একসময় যে তাইওয়ানের কোম্পানিগুলো প্রধানত ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যে (যেমন: ফক্সকনের আইফোন, কোয়ান্টা কম্পিউটার ও উইস্ট্রনের নোটবুক) নির্ভরশীল ছিল, এখন তারাও এআই সার্ভারে প্রচুর বিনিয়োগ করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাইওয়ানের কোম্পানিগুলো দ্রুত গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এটিই তাদের সাফল্যের মূল কারণ। বর্তমানে তাইওয়ান বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ সার্ভার এবং ৯০ শতাংশেরও বেশি এআই সার্ভার সরবরাহ করে। এই পরিবর্তন তাইওয়ানের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।