ভারতে ২২ ভাষায় কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভাষার বাধা সহজেই দূর করছে এআই

গত দুই বছর ধরে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত রাস্তায় স্কুটার চালিয়ে ডেলিভারি করেন ভিনীত সাওয়ান্ত। মুম্বাইয়ের মতো শহরে ডেলিভারির কাজ করা এমনিতেই খুব চাপের, তার ওপর ছিল ভাষাগত সমস্যা। তার মাতৃভাষা মারাঠি, কিন্তু ডেলিভারি অ্যাপের সব নির্দেশ ছিল ইংরেজিতে। এ কারণে প্রায়ই তাকে সহকর্মীদের সাহায্য নিতে হতো, যা কাজের গতি কমিয়ে দিত।
ভিনীত বলেন, “আগে নির্দেশগুলো আন্দাজ করতে হতো, পড়তে সময় লাগত এবং ভুলও হয়ে যেত। যদি কোনো কাস্টমার ইংরেজিতে ‘রিং বেল’ লিখত, আমাকে অন্য ডেলিভারি ড্রাইভারদের জিজ্ঞাসা করতে হতো।”
এআই প্রযুক্তির সমাধান:
এই সমস্যা সমাধানের জন্য জেপটো (Zepto) নামের অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মটি এক বছর আগে ‘রেভেরি ল্যাঙ্গুয়েজ টেকনোলজিস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এআই-ভিত্তিক ভাষা অনুবাদ পরিষেবা চালু করে। এখন ডেলিভারি কর্মীরা অ্যাপের মাধ্যমে ছয়টি ভাষার মধ্যে তাদের পছন্দমতো ভাষা বেছে নিতে পারেন।
ভিনীত সাওয়ান্ত জানান, “এখন আর আন্দাজ করতে হয় না। কাস্টমারের নির্দেশ আমি সরাসরি মারাঠিতে পাই। এখন সবকিছু খুব পরিষ্কার এবং কাউকে জিজ্ঞাসা করতে হয় না।”
‘ভাষিনী’ প্রকল্পের অবদান:
ভিনিতের মতো অসংখ্য মানুষের ভাষাগত সমস্যা দূর করতে ভারত সরকারও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২২টি সরকারি ভাষা এবং শত শত উপভাষা থাকা ভারতে ‘ভাষিনী’ নামের একটি সরকারি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো উচ্চমানের ডেটাসেট তৈরি, এআই ভাষা মডেল তৈরি এবং ২২টি ভাষায় অনুবাদ পরিষেবা চালু করা।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ইতিমধ্যে ৩৫০টিরও বেশি এআই-ভিত্তিক ভাষা মডেল তৈরি করেছে এবং এক বিলিয়নেরও বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে। ৫০টিরও বেশি সরকারি দপ্তর এবং ২৫টি রাজ্য সরকার বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বহু-ভাষিক চ্যাটবট এবং সরকারি প্রকল্পের স্থানীয় ভাষায় অনুবাদের মতো কাজে ‘ভাষিনী’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
‘ভাষিনী’ বিভাগের প্রধান অমিতাভ নাগ বলেন, “আমরা ভারত-কেন্দ্রিক এআই মডেল তৈরি করছি, যা দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির সঠিক প্রতিফলন ঘটাবে। আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে গ্রামীণ মানুষের কাছে তাদের মাতৃভাষায় ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড সরকারি পরিষেবা, আর্থিক টুলস এবং তথ্য পৌঁছে দেওয়া।” এআই প্রযুক্তির এই ব্যবহার দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করে দিচ্ছে এবং প্রযুক্তিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।