আবারও ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের ঘরে বিটকয়েন, উচ্ছসিত বিনিয়োগকারীরা

এক রাতের মধ্যে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন। একই সঙ্গে, ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে ডিজিটাল মুদ্রা ইথার। এই দুই ক্রিপ্টোকারেন্সির এই উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থা ‘কয়েন মেট্রিক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিটকয়েনের দাম এক শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইথারও নতুন রেকর্ড গড়েছে, যার দাম বেড়ে দাঁড়ায় চার হাজার ১৮১ ডলারে। গত শুক্রবার প্রথমবার ইথারের দাম ৪ হাজার ডলারের উপরে উঠেছিল, এবং রবিবার তা আরও বেড়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
মার্কিন শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বগতি
বিটকয়েন এবং ইথারের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারও এখন প্রায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কাছাকাছি। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যার ফলাফল ক্রিপ্টো এবং শেয়ারবাজারের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যবৃদ্ধির এই ঢেউ লেগেছে ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের ওপরও। বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘কয়েনবেইস’-এর শেয়ার মূল্য তিন শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিটকয়েনের সঙ্গে জড়িত ‘গ্যালাক্সি ডিজিটাল’ ও ‘স্ট্র্যাটেজি’-এর শেয়ার মূল্যও যথাক্রমে তিন শতাংশ এবং দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই প্রবণতা দেখা গেছে ‘মারা হোল্ডিংস’, ‘রায়ট প্ল্যাটফর্মস’ এবং ‘আইরেন’-এর মতো বিটকয়েন মাইনিং কোম্পানিগুলোর শেয়ারে, যা তিন শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী?
‘১০এক্স রিসার্চ’-এর সিইও মার্কাস থিলেন এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মূলত এশিয়ার বাজারে বড় পরিমাণে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার কারণেই এই দাম বেড়েছে। এর পেছনে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন যে, জুলাই মাসের শুরুতে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নামের একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, তখন মার্কিন ঋণের সীমা পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়। এর পরই বিটকয়েনের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থান থেকে বাড়তে শুরু করে।
থিলেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিটকয়েনের এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ঋণ বৃদ্ধির সরাসরি ফলাফল। তাঁর মতে, অর্থনীতি শক্তিশালী হোক বা মন্দায় পড়ুক, নতুন ঋণের এই ব্যাপক প্রবাহ বিটকয়েন এবং সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের জন্য একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।