AI-এর উত্থান যেভাবে বিলিয়নেয়ার বানিয়েছে তাদের, জেনেনিন কাদের হচ্ছে লাভ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ইমেইল লেখা থেকে শুরু করে আইনি নথি অনুবাদ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। এই প্রযুক্তি বিপ্লবের পেছনে রয়েছে মাইক্রোসফট, অ্যাপল, এবং এনএইচএস-এর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিপুল বিনিয়োগ। আর এই উত্থানের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদেরকে বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় তুলে এনেছেন। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোর্বসের রিয়াল টাইম বিলিয়নেয়ার তালিকা থেকে এই নতুন ধনকুবেরদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।

জেনসেন হুয়াং: এনভিডিয়ার সিইও
মার্কিন চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেনসেন হুয়াং বর্তমানে এআই বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। তার নেতৃত্বে এনভিডিয়া প্রথমবারের মতো চার ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। মূলত উন্নত গ্রাফিক্স কার্ড তৈরির জন্য পরিচিত এই কোম্পানি এখন এআই শিল্পের জন্য অপরিহার্য। এনভিডিয়ার চিপগুলো চ্যাটজিপিটির মতো এআই মডেল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গণনা করতে পারে। হুয়াংয়ের মোট সম্পদের অধিকাংশই এসেছে কোম্পানির তিন শতাংশ শেয়ার থেকে, যার মূল্য গত বছর ২০০ শতাংশ বেড়েছে।

আলেকজান্ডার ওয়াং: বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়ার
মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমআইটি থেকে পড়াশোনা ছেড়ে নিজের কোম্পানি ‘স্কেল এআই’ শুরু করেন আলেকজান্ডার ওয়াং। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম কম বয়সী বিলিয়নিয়ার, যার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬০ কোটি ডলার। তার স্টার্টআপটি বিভিন্ন কোম্পানিকে এআই ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ করার পরিষেবা দেয়। গুগল, মেটা এবং জেনারেল মোটর্সের মতো ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহক।

স্যাম অল্টম্যান: ওপেনএআই-এর পরিচিত মুখ
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এআই দুনিয়ার অন্যতম পরিচিত নাম। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯০ কোটি ডলার। যদিও ওপেনএআইতে তার কোনো শেয়ার নেই, তার বিপুল সম্পদ এসেছে বিভিন্ন কোম্পানিতে, যেমন স্ট্রাইপ, রেডিট এবং হেলিয়ন-এ করা বিনিয়োগ থেকে। ২০১২ সালে নিজের কোম্পানি ‘লুপ্ট’ বিক্রি করার পর তিনি একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড চালু করেন এবং ২০১৯ সালে ওপেনএআই-এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন।

অন্যান্য প্রভাবশালী বিলিয়নিয়ার
ফিল শাও: এআই অনুবাদ ও ভাষা কোম্পানি ‘ট্রান্সপারফেক্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ফিল শাওয়ের সম্পদ ১৮০ কোটি ডলার। তার কোম্পানি গেইমিং, আইন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য অনুবাদ পরিষেবা দেয়।

দারিও আমোদেই: ওপেনএআই ছেড়ে আসা কর্মীদের নিয়ে ‘অ্যানথ্রপিক’ নামের একটি নতুন এআই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তার মোট সম্পদ ১২০ কোটি ডলার। তিনি ওপেনএআইতে ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

লিয়াং ওয়েনফেং: ৪০ বছর বয়সী চীনা উদ্যোক্তা লিয়াং ওয়েনফেং তার ‘ডিপসিক-আর১’ নামক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার সম্পদ ১০০ কোটি ডলার। তার মডেলটি চ্যাটজিপিটির তুলনায় কম খরচে কাজ করতে সক্ষম।

ইয়াও রুনহাও: ‘পেপার গেইমস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়াও রুনহাও তার এআই ডেটিং সিমুলেটর গেইম ‘লাভ অ্যান্ড ডিপস্পেস’-এর জন্য বিখ্যাত। তার মোট সম্পদ ১৩০ কোটি ডলার। এই গেইমটি ভার্চুয়াল প্রেমিক বা প্রেমিকা তৈরি করে, যারা এআই ব্যবহার করে গেইমারদের সঙ্গে রোমান্টিক কথোপকথন করতে পারে।