যেভাবে পাসওয়ার্ড সেট করলে হ্যাকার আপনার নাগাল পাবে না, জেনেনিন সেই পদ্ধতি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবন অনেকটাই অনলাইন-নির্ভর। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এমনকি ব্যক্তিগত ডিভাইস – সবকিছুর সুরক্ষায় পাসওয়ার্ড এখন অপরিহার্য। কিন্তু হ্যাকারদের নিত্যনতুন কৌশলের কারণে পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমশই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তথ্য চুরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করা – এমন ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। এই পরিস্থিতিতে আপনার ডিজিটাল জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন।
পাসওয়ার্ড হোক ‘দুর্গম’:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ডিভাইস এবং অ্যাকাউন্টের জন্য একটি ‘শক্তিশালী’ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বলতে এমন একটি পাসওয়ার্ড বোঝায় যা সহজে অনুমান করা যায় না এবং বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এর নিরাপত্তা ভেদ করা কঠিন।
পাসওয়ার্ড তৈরির সময় সতর্কতা:
জটিলতা বাড়ান: পাসওয়ার্ড নির্বাচনের সময় থেকেই সতর্ক হোন। পাসওয়ার্ডকে আরও জটিল করার চেষ্টা করুন।
বর্ণ, সংখ্যা ও চিহ্নের মিশ্রণ: নিশ্চিত করুন আপনার পাসওয়ার্ডে বড় হাতের (Capital Letter) এবং ছোট হাতের (Small Letter) অক্ষর (যেমন A, b), সংখ্যা (যেমন 1, 2, 3) এবং বিশেষ চিহ্ন (যেমন @, #, &) এর মিশ্রণ রয়েছে। এটি পাসওয়ার্ডের অনুমানযোগ্যতা অনেক কমিয়ে দেয়।
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:
ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার নয়: আপনার নাম, ডাক নাম, জন্ম তারিখ, অথবা স্ত্রী বা সন্তানের নাম পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সাইবার প্রতারকরা সহজেই এই ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড অনুমান করে নিতে পারে।
সহজ অনুমানযোগ্যতা পরিহার: পোষা প্রাণীর নাম, জন্ম সাল বা অন্য কোনো সুস্পষ্ট ও সহজে অনুমানযোগ্য তথ্য দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন। বাস্তব শব্দের উপর ভিত্তি করে তৈরি পাসওয়ার্ড ‘অভিধান আক্রমণ’ (Dictionary Attack) এর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নিয়মিত পরিবর্তন ও অতিরিক্ত সুরক্ষা:
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন: আপনার ডিজিটাল সুরক্ষাকে আরও দৃঢ় করতে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। এক থেকে তিন মাস অন্তর পাসওয়ার্ড বদলে নেওয়াকে সবচেয়ে ভালো অভ্যাস বলে মনে করা হয়। একইভাবে এটিএম কার্ডের পিন এবং অনলাইন ওয়ালেটের পাসওয়ার্ডও নিয়মিত বদলানো উচিত।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): যে সব অ্যাপ বা অ্যাকাউন্টে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্য কোনো টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের (Two-Factor Authentication) সুযোগ আছে, সেখানে অবশ্যই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখুন। এটি আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাকে দ্বিগুণ করে তোলে।
পাসওয়ার্ডের ভিন্নতা: সবক’টি অ্যাপ বা অ্যাকাউন্টের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন, আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড আপনার ই-মেইল বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
সর্বদা সতর্ক থাকুন:
তথ্য যাচাই করুন: ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক, বীমা সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম করে কেউ যদি আপনার পিন বা পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্য জানতে চায়, তাহলে কখনোই দেবেন না। সর্বদা তথ্যের সত্যতা যাচাই করুন।
অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার: আপনার স্মার্ট গ্যাজেটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যান্টিভাইরাস এবং অ্যান্টিম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ইনস্টল করুন। এটি আপনার ডিভাইসকে ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।
এই সহজ কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার ডিজিটাল জীবনকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারবেন এবং সাইবার অপরাধীদের ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।