ইনটেল ফের ব্যাপক হারে করছে ছাঁটাই, AI-য়ের দৌড়ে কর্মীদের টিকে থাকার লড়াই!

প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেল গত এপ্রিলে যখন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়, তখন তারা এটিকে “কোনো নির্দিষ্ট জনবল কমানোর লক্ষ্য” নয় বলে দাবি করেছিল। তবে বাস্তবে এরপর থেকেই কোম্পানিটি হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করে চলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদনে এটি স্বীকার করা হয়েছে যে, এই ছাঁটাইয়ের কারণে ইন্টেলে জনশক্তি নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।
কোম্পানিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘কোর এমপ্লয়ি’ হিসেবে মাত্র ৭৫ হাজার কর্মী নিয়ে চলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ছাঁটাইয়ের চিত্র: এক চতুর্থাংশ কর্মী কমছে
গত বছরের শেষে ইন্টেলে মোট এক লাখ নয় হাজার ৮০০ জন কর্মী ছিল, যার মধ্যে ৯৯ হাজার ৫০০ জন ছিল তাদের ‘কোর এমপ্লয়ি’ বা মূল কর্মী। আর, এ বছর কোম্পানিটি প্রায় ২৪ হাজার জনকে ছাঁটাই করছে, যা জনশক্তির দিক দিয়ে এর আকার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমিয়ে দিয়েছে।
এই বিশাল ছাঁটাই ইন্টেলের নতুন সিইও লিপ বু ট্যান প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজাতে কতটা কাটছাঁট করতে প্রস্তুত, সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে বছরের পর বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ঝামেলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্ভাবনের দৌড়ে পিছিয়ে থাকার পর ইন্টেলকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটি একটি কঠোর পদক্ষেপ।
ব্যবসায়িক পুনর্গঠন ও কৌশলগত পরিবর্তন
২০২৫ সালের জুনের শেষ দিকে, ইন্টেল তাদের স্বয়ংক্রিয় চিপ তৈরির ইউনিট বন্ধ করে দেয় এবং ঘোষণা করে যে তারা সিলিকন ফ্যাক্টরি বিভাগের প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে। এরপর জুলাই মাসে তারা রিয়ালসেন্স কম্পিউটার ভিশন ব্যবসা আলাদা করে দেয়।
কোম্পানির আয় সংক্রান্ত সভায় ইন্টেলের সিইও বলেন, কোম্পানিটি চিপের প্রয়োজনীয় চাহিদা নিশ্চিত হওয়ার আগেই নতুন কারখানায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছিল, যার ফলে কারখানাগুলো ‘দরকার ছাড়াই খণ্ডিত’ হয়ে পড়েছিল। এখন থেকে ইন্টেলকে তার উৎপাদন সক্ষমতা ‘বাস্তব লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে’ বাড়াতে হবে।
ট্যান জোর দিয়ে বলেন, “আমি এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী না যে ‘পণ্য বানালে, ক্রেতা আপনিই চলে আসবে’। আমার নেতৃত্বে আমরা ঠিক তখনই ঠিক সেই জিনিস তৈরি করব, যখন আমাদের গ্রাহকদের সত্যিই তা প্রয়োজন হবে আর আমরা তাদের বিশ্বাস অর্জন করব।” এই মন্তব্য ইন্টেলের ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও বাজার কৌশলের ওপর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
কোস্টারিকা থেকে ভিয়েতনামে কার্যক্রম স্থানান্তর
কোস্টারিকায় ইন্টেলের তিন হাজার ৪০০ এর বেশি কর্মী ছিল, তবে কোম্পানিটি তাদের অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট কার্যক্রম সেখান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। এই কার্যক্রম এখন ভিয়েতনামের বড় বড় স্থাপনাগুলোতে স্থানান্তরিত হবে। যদিও প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ভার্জকে ইন্টেলের মুখপাত্র মেটজগার বলেছেন, কোস্টারিকায় প্রায় দুই হাজার কর্মী ইঞ্জিনিয়ারিং ও কর্পোরেট দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
২০২৫ সালের মাঝপথ পেরিয়ে এলেও ইন্টেলের ছাঁটাইয়ের ধারা থামবে কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে কোম্পানিটি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, গত প্রান্তিকে ঘোষণা দেওয়া কর্মী ছাঁটাইয়ের যে পরিকল্পনা ছিল, তার প্রায় ১৫ শতাংশ মূল কর্মীবাহিনী কমানোর লক্ষ্য ইতিমধ্যে বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, একসময় বিশ্বজুড়ে প্রধান কম্পিউটার চিপ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত এই কোম্পানিটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগীদের চাপে রয়েছে। বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কম্পিউটিংয়ে এনভিডিয়া’র মতো প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ইন্টেলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই ব্যাপক ছাঁটাই ইন্টেলের নতুন পথে চলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।