১১ হাজার ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করলো গুগল, জেনেনিন কেন এই পদক্ষেপ?

জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব জুড়ে চলছে গুগলের শুদ্ধি অভিযান। চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল, মে ও জুন) চীন এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলো নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগে প্রায় ১১ হাজার ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। সিএনবিসি-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং গুগলের অফিসিয়াল ব্লগ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
বন্ধ হওয়া এই ১১ হাজার ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলের মধ্যে ৭ হাজার ৭০০টি চীনের মদতপুষ্ট এবং ২ হাজার ২০০টি রাশিয়ার মদতপুষ্ট চ্যানেল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে হাজার হাজার চ্যানেল বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউটিউব। এছাড়াও, বেশ কিছু ডোমেনকে গুগল নিউজে যাতে দেখানো না হয়, সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রোপাগান্ডা (অপপ্রচার) চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
গুগলের ‘থ্রেট অ্যানালিসিস গ্রুপ’ সারা বিশ্বের সব ইউটিউব চ্যানেলের উপর নিবিড় নজরদারি চালায়। এর আগে কেবল মে মাসেই গুগল ২০টি ইউটিউব চ্যানেল, চারটি বিজ্ঞাপনী অ্যাকাউন্ট এবং একটি ব্লগ বন্ধ করে দিয়েছিল।
জানা গেছে, চীনের মদতপুষ্ট চ্যানেলগুলো মূলত চীনা ও ইংরেজি ভাষায় শি জিনপিংয়ের প্রশস্তি গাইত এবং মার্কিন বিদেশ নীতির নিন্দা করত। অন্যদিকে, রাশিয়ার চ্যানেলগুলোর প্রধান কাজ ছিল ইউক্রেন, ন্যাটো এবং পশ্চিমী দেশগুলোর সমালোচনা করে রাশিয়ার পক্ষে সাফাই দেওয়া। পাশাপাশি, মস্কো প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্থাগুলোর হয়েও এই সব চ্যানেল প্রচার চালাত।
বন্ধ হওয়া বাকি চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে ইরান, আজারবাইজান, তুরস্ক, ইজরায়েল, রোমানিয়া এবং ঘানার প্রশাসনের হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ধর্মীয় ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ইজরায়েল-গাজা সংঘাতের মতো সংবেদনশীল বিষয় যেমন ছিল, তেমনই ছিল অভ্যন্তরীণ নির্বাচন সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক তথ্য। এই চ্যানেলগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করা, যে কারণেই গুগল এদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
গুগলের এই পদক্ষেপ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার এবং ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে তাদের চলমান লড়াইয়ের অংশ। এটি ডিজিটাল স্পেসে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।