ফোনে থাকা ৭ স্ক্রিনশটের কারণে হ্যাকারের ফাঁদে পড়তে পারেন, জেনেনিয়ে থাকুন সতর্ক

আধুনিক স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্য সংরক্ষণ বা দ্রুত কাজে লাগানোর জন্য আমরা প্রায়শই ফোনের স্ক্রিনশট নিয়ে থাকি। কিন্তু এই আপাত নিরীহ স্ক্রিনশটগুলোই আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সাইট মেক ইউজ অব (MUO) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফোনের গ্যালারিতে থাকা সাত ধরনের সাধারণ স্ক্রিনশট হ্যাকারদের জন্য তথ্য চুরির বড় কারণ হতে পারে। আপনার অজান্তেই এসব স্ক্রিনশট ব্যক্তিগত, আর্থিক বা পেশাগত তথ্য ফাঁসের কারণ হতে পারে।
যে ৭ ধরনের স্ক্রিনশট হ্যাকারদের মূল লক্ষ্য
১. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সের স্ক্রিনশট: অনেকে সঞ্চয় বা লেনদেন যাচাই করার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সের স্ক্রিনশট নেন। কিন্তু এতে ব্যালেন্স ছাড়াও অ্যাকাউন্ট নম্বরের অংশবিশেষ, সাম্প্রতিক লেনদেন বা ব্যাংকের লোগোসুলভ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে যেতে পারে। হ্যাকাররা এগুলো ব্যবহার করে আপনার নামে ফিশিং বার্তা পাঠাতে বা অর্থ চুরি করতে পারে।
২. পাসওয়ার্ড বা লগইন তথ্যের স্ক্রিনশট: ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (২এফএ) কোড বা অন্য কোনো লগইন তথ্য স্ক্রিনশট নিয়ে রাখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু এগুলো সাধারণ গ্যালারিতে রাখা মোটেও নিরাপদ নয়, কারণ গ্যালারি এনক্রিপ্ট করা থাকে না এবং অনেক অ্যাপই এসব ছবি অ্যাকসেস করতে পারে।
৩. ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট: টেক্সট মেসেজ, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট অনেকে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এতে ফোন নম্বর, ইউজারনেম বা ব্যক্তিগত আলোচনা থেকে যেতে পারে, যা ফাঁস হলে ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. পরিচয়পত্র ও নথিপত্র: পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বোর্ডিং পাসের স্ক্রিনশট রাখা অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু এসব স্ক্রিনশটে আপনার নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে, যা চুরি হলে হ্যাকাররা আপনার পরিচয় জালিয়াতিতে ব্যবহার করতে পারে।
৫. চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য: প্রেসক্রিপশন, টেস্ট রিপোর্ট বা হাসপাতালের বিলের স্ক্রিনশটে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তথ্য থেকে যায়। এগুলো ফাঁস হলে শুধু গোপনীয়তা নষ্টই নয়, বরং প্রতারণা বা সামাজিক বিপদের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
৬. অনলাইন শপিং কনফার্মেশন বা ই-টিকিট: অনলাইনে কেনাকাটা বা কোনো অনুষ্ঠানের ই-টিকিটের স্ক্রিনশটে কিউআর কোড বা বারকোড থাকে, যা কেউ স্ক্যান করে ব্যবহার করে ফেলতে পারে। অনেক সময় এগুলো অনলাইনে বিক্রিও করে দেয় প্রতারক চক্র।
৭. অফিসের নথিপত্র: অফিসের কাজের ফাইল, ক্লায়েন্ট ডাটা বা প্রজেক্ট পরিকল্পনার স্ক্রিনশট যদি ফোনে থেকে যায় এবং তা ফাঁস হয়, শুধু চাকরি হারানোর ঝুঁকিই নয়, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও প্রতারকদের হাতে চলে যায়।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন:
- অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট ডিলিট করুন: যে স্ক্রিনশটগুলোর আর প্রয়োজন নেই, সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন।
- সংবেদনশীল তথ্য স্ক্রিনশট নেওয়া থেকে বিরত থাকুন: ব্যক্তিগত, আর্থিক বা গুরুত্বপূর্ণ লগইন তথ্যের স্ক্রিনশট নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
- নিরাপদ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন: পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য এনক্রিপ্টেড পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন।
- ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ক্লাউডে কোনো ফাইল আপলোড করার আগে নিশ্চিত করুন সেটি এনক্রিপ্টেড এবং সুরক্ষিত।
- অ্যাপ পারমিশন যাচাই করুন: কোন অ্যাপ আপনার ফোনের গ্যালারি অ্যাকসেস করতে পারছে, তা নিয়মিত যাচাই করুন এবং অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বন্ধ করুন।
আধুনিক বিশ্বে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সচেতন থাকুন।