Chat GPT-তে এক্সেল ও পাওয়ার পয়েন্টের বিকল্প যুক্ত হচ্ছে, চ্যালেঞ্জের মুখে মাইক্রোসফট?

চ্যাটজিপিটি আর কেবল প্রশ্নোত্তরের একটি এআই সহকারী থাকছে না! প্রযুক্তি জগতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্মে এবার স্প্রেডশিট এবং প্রেজেন্টেশন তৈরির সুবিধা যুক্ত হতে চলেছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মাইক্রোসফট অফিসের মতো প্রতিষ্ঠিত সফটওয়্যারগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, চ্যাটজিপিটি ক্রমশ একটি পূর্ণাঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অফিস সহকারীতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এমন একটি সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, যা ব্যবহারকারীদের আলাদা কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই স্প্রেডশিট ও স্লাইড তৈরি এবং সম্পাদনা করার সুযোগ দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ফাইলগুলো ওপেন সোর্স ফরম্যাটে তৈরি হবে, যার ফলে সেগুলো মাইক্রোসফট অফিসেও ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, চ্যাটজিপিটিতে তৈরি করা ফাইলগুলো পরে এক্সেলে বা পাওয়ারপয়েন্টে খোলা যাবে।

এই সুবিধা চালু হলে চ্যাটজিপিটির ইন্টারফেসে ব্যবহারকারীরা চার্ট, টেবিল বা স্লাইড তৈরির জন্য সহজ নির্দেশনা ও বাটন দেখতে পাবেন। ধাপে ধাপে নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যবহারকারীরা পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন। এর ফলে, মাইক্রোসফট ৩৬৫ বা গুগল ওয়ার্কস্পেসের মতো ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবার প্রয়োজন নাও হতে পারে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা নিয়ে আসবে।

মাইক্রোসফট-ওপেনএআই সম্পর্কে কি প্রভাব পড়বে?

সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং মাইক্রোসফটের সম্পর্ক নিয়ে প্রযুক্তি মহলে নানা জল্পনা চলছিল। যদিও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান প্রকাশ্যে সেই গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন, তবুও যদি চ্যাটজিপিটি মাইক্রোসফট অফিসের মতো পণ্যকে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলে, তাহলে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেকার সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চ্যাটজিপিটির ভবিষ্যৎ: স্বয়ংক্রিয় ‘এজেন্ট’ ব্যবস্থা?

বর্তমানে ওপেনএআই চ্যাটজিপিটিতে আরও উন্নত সুবিধা যুক্ত করার জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘এজেন্ট’ নামের একটি স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থা। এই এজেন্টগুলো একাধিক ধাপে জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। এর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিবেদন তৈরি, বৈঠকের সময় নির্ধারণ এবং অনলাইনে নির্দিষ্ট কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। এই ধরনের ক্ষমতা চ্যাটজিপিটিকে একটি সাধারণ চ্যাটবট থেকে আরও অনেক বেশি কার্যকর এবং বহুমুখী একটি প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া