সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে কি না জানার উপায়, জেনেনিন কয়েকটি লক্ষণ ও উপায় ?

বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আমাদের কাছে ব্যাংক ব্যালেন্সের চেয়েও বেশি মূল্যবান। নানান ধরনের ছবি, ভিডিও, চ্যাট, এবং পোস্টে সাজানো থাকে এই অ্যাকাউন্টগুলো। একবার বেহাত হলে সর্বনাশ! আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট বা ছবি ব্যবহার করে হ্যাকাররা আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। তাই হ্যাকারদের নজর সব সময় সোশ্যাল মিডিয়ার দিকেই থাকে। সম্প্রতি ১৬ মিলিয়ন পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনা ডিজিটাল নিরাপত্তার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফোর্বসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যাপল, ফেসবুক, গুগল, গিটহাব, টেলিগ্রাম এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আইডি-পাসওয়ার্ড চলে গেছে ডার্ক ওয়েবে।
তবে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে কি না, তা জানা এখন খুব সহজ। আসুন, এমন চারটি বিশ্বস্ত টুলের কথা জেনে নিই, যার মাধ্যমে সহজেই নিশ্চিত হতে পারবেন আপনার ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত আছে কিনা।
১. হ্যাভ আই বিন পনড (Have I Been Pwned)
এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি আপনার ই-মেইল আইডি দিয়েই জানতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য হ্যাকারদের হাতে পড়েছে কি না। শুধু তাই নয়, আপনি আপনার বর্তমান পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করেও পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন, আপনার ব্যবহৃত কোন কোন পাসওয়ার্ড ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গেছে। এটি আপনাকে দ্রুত আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তার অবস্থা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়।
২. গুগল ক্রোমের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার (Google Chrome Password Manager)
গুগল অ্যাকাউন্টে আপনি যেসব তথ্য সেভ করে রেখেছেন, তা সুরক্ষিত আছে কিনা এবং আপনার বর্তমান পাসওয়ার্ডটি বিপদমুক্ত কিনা, তা এই প্ল্যাটফর্ম জানিয়ে দেবে। আপনার যাবতীয় তথ্য পরীক্ষানিরীক্ষা করে গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে নিজে থেকেই সতর্কবার্তা পাঠায়। এখানেই শেষ নয়, কোন পাসওয়ার্ড দুর্বল, কোনটি বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেসবও গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজার আপনাকে জানান দেয়। পাশাপাশি, কী ধরনের পাসওয়ার্ড দিলে আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকবে, সেই পরামর্শও এটি দিয়ে থাকে।
৩. মাইক্রোসফট এজ পাসওয়ার্ড মনিটর (Microsoft Edge Password Monitor)
উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম। আপনি যদি মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার ব্যবহার করেন, তবে এই ফিচারটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সেভ করে রাখা কোনো পাসওয়ার্ড যদি হ্যাকারদের খপ্পরে পড়ে থাকে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে জানিয়ে দেবে। এটি আপনাকে সময় থাকতে সতর্ক করে দেয়, যাতে আপনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
৪. গুগলের ডার্ক ওয়েব মনিটরিং টুল (Google’s Dark Web Monitoring Tool)
আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে চলে যাচ্ছে কিনা, এবার সেই তথ্য পেয়ে যাবেন সহজেই। গুগলের ডার্ক ওয়েব মনিটরিং ফিচারের কাজ হল, ডার্ক ওয়েব স্ক্যান করা। আর তাতেই জানা যায় আপনার ই-মেইল, ফোন নম্বর এবং পাসওয়ার্ডগুলো সুরক্ষিত আছে কিনা। যদি আপনার কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। এটি একটি প্রো-অ্যাক্টিভ টুল যা আপনার ডিজিটাল পদচিহ্নকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
আপনার ডিজিটাল জীবন সুরক্ষিত রাখতে এই টুলগুলো ব্যবহার করে নিয়মিত আপনার পাসওয়ার্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। সামান্য অসতর্কতাও অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।