এয়ার কুলার বর্ষায় ব্যবহার করবেন যেভাবে, জেনেনিন ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি

গরমে এসির শীতল পরশ আরাম দিলেও, যাদের এসি ব্যবহারের সুযোগ নেই বা খরচ বেশি মনে হয়, তাদের জন্য এয়ার কুলার একটি দারুণ বিকল্প। বিশেষ করে গরমকালে এয়ার কুলার খুবই কার্যকর একটি যন্ত্র। তবে বর্ষার সময় এয়ার কুলার থেকে সঠিক কুলিং পেতে এবং এর কার্যকারিতা বজায় রাখতে কিছু কৌশল ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও হবে এবং আপনার কুলারটিও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

বর্ষায় কেন এয়ার কুলার কম কাজ করে?

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এয়ার কুলার মূলত জল বাষ্পীভবনের মাধ্যমে কাজ করে – অর্থাৎ, জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসকে শীতল করে। কিন্তু বাতাসে যদি আগেই প্রচুর আর্দ্রতা থাকে, তাহলে জল সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না। এর ফলে কুলিং এফেক্ট কমে যায় এবং আপনি আশানুরূপ ঠান্ডা বাতাস পান না।

বর্ষাকালে এয়ার কুলার ব্যবহারের সঠিক নিয়মাবলী:
১. সঠিক ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করুন: এয়ার কুলার চালানোর সময় ঘরের জানালা বা দরজা খানিকটা খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে ঘরের ভেতরের স্যাঁতসেঁতে বাতাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে এবং বাইরের অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। এর ফলে কুলিং অনেক ভালো হয়।

২. ডিও-হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন: যদি আপনার ঘরে খুব বেশি আর্দ্রতা থাকে, তাহলে একটি ডিও-হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে কুলার আরও ভালো কাজ করবে। কুলারের পাশে একটি ছোট ডিও-হিউমিডিফায়ার বসিয়ে দিলে তা বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে কুলিং ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

৩. কুলারের ওয়াটার ট্যাঙ্কে ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন: বর্ষাকালে কুলিং এফেক্ট বাড়ানোর জন্য কুলারের জলের ট্যাঙ্কে ঠান্ডা জল বা বরফ ব্যবহার করতে পারেন। এতে কিছুটা বেশি স্বস্তিদায়ক বাতাস পাওয়া যাবে।

৪. নিয়মিত পরিষ্কার করুন: বর্ষাকালে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বেশি হয়। তাই প্রতি সপ্তাহে কুলারের জলের ট্যাঙ্ক ও প্যাড পরিষ্কার করা উচিত। প্যাডগুলো হালকা ডিটারজেন্ট এবং নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন। জলের ট্যাঙ্কে যেন জমে থাকা জল না থাকে। ছাঁচ বা দুর্গন্ধ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার করুন।

৫. ইনভার্টার বা ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন: বর্ষাকালে বিদ্যুতের ওঠানামা বেশি হয়, যা যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। তাই ইনভার্টার বা ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করলে আপনার কুলার দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এবং সার্কিট নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

৬. জলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল লিকুইড ব্যবহার করুন: বাজারে কিছু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল কুলার ক্লিনার বা লিকুইড পাওয়া যায়। জলের সঙ্গে এগুলো মিশিয়ে দিলে জীবাণু ও দুর্গন্ধ কমে এবং কুলার প্যাডের আয়ুও বাড়ে।

৭. ফ্যান ও ব্লোয়ার পরীক্ষা করুন: কুলারের ফ্যান বা ব্লোয়ারে ধুলা জমে গেলে বাতাস কম বের হয়। তাই বর্ষা শুরুর আগে ফ্যান ও ব্লোয়ার ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত যাতে বাতাসের প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে।

এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াতেও আপনার এয়ার কুলার আপনাকে আরামদায়ক শীতল বাতাস দিতে পারবে এবং এর কার্যকারিতাও বজায় থাকবে।