চোখের পলকে ডাউনলোড হবে ফাইল-ভিডিও, ইন্টারনেট জগতে নতুন আবিষ্কার

‘বাফারিং’ শব্দটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে এক চিরচেনা অভিজ্ঞতা। ফাইল ডাউনলোড বা ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে অপেক্ষার এই মুহূর্তটি হয়তো অচিরেই ইতিহাস হতে চলেছে। জাপানের সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী আবিষ্কার ইন্টারনেটের গতিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ‘বাফারিং’ কেবল অভিধানেই খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত জুন, ২০২৫-এ জাপানের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (NICT) কার্যত নিঃশব্দে এক প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা বিশ্বের ইন্টারনেট গতির রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন, যা আগামীতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারণাই পাল্টে দেবে।
অকল্পনীয় গতি: ১.০২ পেটাবাইটস/সেকেন্ড
NICT-এর গবেষকরা ১.০২ পেটাবাইটস পার সেকেন্ড (PB/s) গতিতে ডেটা ট্রান্সমিট করতে সক্ষম হয়েছেন। এর অর্থ হলো, প্রতি সেকেন্ডে ১০ লক্ষ ২০ হাজার গিগাবাইট (GB) ডেটা ট্রান্সফার করা সম্ভব হবে। এই গতি এতটাই বেশি যে, এতদিন ধরে আমরা যে ধীরগতির ডাউনলোড বা স্ট্রিমিংয়ের ঝক্কি সামলেছি, তা অতীতের বিষয় হয়ে যাবে। চোখের পলকে গান, সিনেমা, ভিডিও, অডিও, গেম—সবকিছু ডাউনলোড হওয়ার স্বপ্ন হয়তো এবার সত্যি হতে চলেছে।
১.০২ PB/s গতিতে কী কী সম্ভব?
গবেষণা অনুসারে, এই অবিশ্বাস্য গতিতে কী কী কাজ কত দ্রুত হতে পারে, তার কিছু উদাহরণ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
ভারী গেমিং অ্যাপ: একটি গেমিং অ্যাপে থাকা সমস্ত গেম ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ডাউনলোড হয়ে যাবে, এমনকি যদি সেগুলো খুব ভারী মাত্রার ভিডিও গেমও হয়।
নেটফ্লিক্সের সম্পূর্ণ কন্টেন্ট: নেটফ্লিক্সের সমস্ত কন্টেন্ট চোখের পলকে ডাউনলোড করা যাবে, বলা ভালো, অ্যাপ খুলতে যেটুকু সময় লাগে তার থেকেও কম সময়ে।
১০ মিলিয়ন আলট্রা এইচডি ভিডিও: এই ইন্টারনেটের গতি এতটাই বেশি হবে যে, একই সঙ্গে ১০ মিলিয়ন আলট্রা এইচডি ৮কে রেজোলিউশনের ভিডিও চালানো গেলেও কোনো সমস্যা হবে না।
উইকিপিডিয়া ডাউনলোড: ইংরেজি ভাষার উইকিপিডিয়ার পরিমাপ প্রায় ১০০ জিবি। ১.০২ PB/s গতিতে আপনি মাত্র ১ সেকেন্ডে ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্য প্রায় ১০ হাজার বার ডাউনলোড করতে পারবেন।
ভবিষ্যতের দিকে জাপান:
তবে এই সুবিধা এখনই পাওয়া যাচ্ছে না। এর জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তির সবচেয়ে বেশি ব্যবহার এবং আবিষ্কারের কেন্দ্রবিন্দু হলো জাপান। বলা হয়ে থাকে, যখন বহির্বিশ্ব ২০২৫ সালে আছে, জাপান তখন বাস করছে ২০৫০ সালে। জাপানের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সবসময়ই অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। এই নতুন আবিষ্কার সেই ধারণাকেই আরও একবার প্রমাণ করল।