NASA-তে ২ হাজারেরও বেশি কর্মী হারানোর আশঙ্কা, ঝুঁকিতে ভবিষ্যতের মিশন, জেনেনিন কেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এক বড় ধরনের কর্মী সংকটের মুখে পড়তে চলেছে। আমেরিকান গণমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, এই বাজেট চাপের ফলে সংস্থাটি ২,১৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মীকে হারাতে পারে, যা ভবিষ্যতের গবেষণা ও মহাকাশ মিশনে গুরুতর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই কর্মী শূন্যতা এমন এক সময়ে তৈরি হচ্ছে, যখন নাসা ২০২৬ সালে নতুন একদল নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই হাজারেরও বেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় সকলেই অভিজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন, যাদের বিশেষ দক্ষতা বা ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পলিটিকো উল্লেখ করেছে যে, যারা চলে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ১,৮১৮ জন কর্মী বিজ্ঞান বা মানব নভোচারী উৎক্ষেপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে কাজ করছেন। বাকি কর্মীরা নাসার আইটি, ব্যবস্থাপনা বা অর্থায়নের মতো অপরিহার্য কাজে ভূমিকা রাখছেন।

সংস্থাটির আঞ্চলিক বিভিন্ন কেন্দ্রের কর্মীরাও এই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে ‘কেনেডি স্পেস সেন্টার’-এর ৩১১ জন এবং ‘জনসন স্পেস সেন্টার’-এর ৩৬৬ জন কর্মী রয়েছেন। এই কেন্দ্রগুলি নাসার বিভিন্ন মিশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘কেনেডি স্পেস সেন্টার’ নাসার প্রধান রকেট উৎক্ষেপণ স্থান, আর ‘জনসন স্পেস সেন্টার’ মানব মহাকাশ ফ্লাইট অপারেশনের জন্য ‘হোম বেস’ বা ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।

বাজেট প্রস্তাবনা ও কংগ্রেসের ভূমিকা
পলিটিকো আরও জানিয়েছে যে, এই স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ঘটনা হোয়াইট হাউসের বাজেটে প্রস্তাবিত কর্মী ছাঁটাইয়ের মাত্র অর্ধেক। ২০২৫ সালের জন্য নাসার বাজেট থেকে ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এটি নাসার অনেক ভবিষ্যৎ মিশন ও গবেষণা প্রকল্পকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে, যার মধ্যে চাঁদের কক্ষপথে বসতে যাওয়া ‘গেটওয়ে’ স্টেশনও রয়েছে।

যদিও কংগ্রেসের পক্ষে এখনও এ প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব, তবে এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান কর্মী হারানোর বিষয়টি পুরোপুরি স্বেচ্ছায় হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি এরই মধ্যে হয়ে গিয়েছে।

তবে, বর্তমানে বাণিজ্যিক মহাকাশ মিশনের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অভিজ্ঞ সাবেক নাসা কর্মীদের জন্য নতুন কাজের অনেক সুযোগও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নাসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সংস্থার এই কর্মী সংকট বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।