আমেরিকার ‘ইমেইল ভাণ্ডার’ ফাঁসের হুমকি ইরানি হ্যাকারদের, জেনেনিন বিস্তারিত

হোয়াইট হাউসের ইমেইল ফাঁসের হুমকি: ‘ইরান-সংশ্লিষ্ট’ হ্যাকারদের হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ
ওয়াশিংটন ডি.সি.: হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের কাছ থেকে চুরি করা ইমেইল ফাঁসের হুমকি দিয়েছে ‘ইরান সংশ্লিষ্ট’ হ্যাকারদের একটি দল। সোমবার দেওয়া এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এর আগেও এই হ্যাকার দলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের কিছু চুরি করা তথ্য ফাঁস করেছিল বলে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
১০০ গিগাবাইট ইমেইলের ভাণ্ডার, লক্ষ্যের শীর্ষে কারা?
হ্যাকার দলটি, যারা নিজেদের “রবার্ট” নামে পরিচয় দিচ্ছে, রয়টার্সকে জানিয়েছে যে তারা প্রায় ১০০ গিগাবাইট আকারের ইমেইল সংগ্রহ করেছে। এসব ইমেইল হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ সুজি উইলস, ট্রাম্পের আইনজীবী লিন্ডজি হ্যালিগান, উপদেষ্টা রজার স্টোন এবং পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া হয়েছে। এই তথ্যগুলো এখন ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তারা।
যদিও “রবার্ট” নামের এই হ্যাকার দলটি সাইবার হামলার দায় স্বীকার করেছে, রয়টার্সকে তারা এসব ইমেইলের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, চুরি করা এই তথ্য বিক্রির কথা তারা ‘ভাবছে’।
ট্রাম্প প্রশাসনের সতর্কবার্তা এবং হ্যাকিংয়ের প্রকাশ
এই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি প্রকাশ্যে এল এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে যে, ইরানের সঙ্গে জড়িত বা দেশটির সরকার-সমর্থিত হ্যাকাররা মার্কিন বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার হামলা চালাতে পারে।
হোয়াইট হাউস ও এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট, তার সহকর্মী এবং আমাদের সাইবার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে” দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের কাজ যাতে ঠিকঠাক হয়, তা নিশ্চিত করা তাদের “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার”।
প্যাটেল আরও বলেছেন, “জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেনো, তাকে কড়া তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং আইনে কঠোর শাস্তিও দেওয়া হবে।”
পূর্বের সাইবার হামলা ও চলমান উত্তেজনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি বিভিন্ন হ্যাকার দলের কাছ থেকে একই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। গত বছর চীনের সঙ্গে জড়িত হ্যাকাররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ফোন থেকে তথ্য চুরির চেষ্টা করেছিল। একই সময়ে ‘রবার্ট’ নামের এই হ্যাকার দলটি ট্রাম্পের প্রচার দলের কাছ থেকে সংগৃহীত অনেক ইমেইল তথ্য চুরি করে সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দিয়েছে, যার মধ্যে আমেরিকান রাজনৈতিক পরামর্শদাতা রজার স্টোনের কিছু ইমেইলও ছিল বলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে।
‘সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি’র জনসংযোগ পরিচালক মার্সি ম্যাকার্থি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এ তথাকথিত সাইবার আক্রমণ ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং সাইবার হামলার বিভিন্ন টার্গেটও কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।”
ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনাতে ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে, যা সাইবার আক্রমণের হুমকিও বাড়িয়েছে বলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট উল্লেখ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে জড়িত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন অন্যান্য আমেরিকান বিভিন্ন কোম্পানির কাজ ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে।
এই ঘটনাটি আবারও আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।