দিনে কতটা সময় কাটছে সোশ্যাল মিডিয়ায়? গবেষণায় উঠে এলো ভয়ঙ্কর তথ্য!

সকালে ঘুম ভাঙতেই প্রথম কাজ কি ফোনটা হাতে নেওয়া? সময় দেখা বা অ্যালার্ম বন্ধ করা অজুহাত হলেও, এরপর কি অজান্তেই ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রোল করতে শুরু করেন? এরপর দিনের বেলায় অফিসের কাজ বা পড়াশোনার ফাঁকে নোটিফিকেশন চেক করা তো আছেই। আর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গভীর রাত পর্যন্ত চলে চ্যাট, পোস্ট করা বা রিলস দেখার পালা। আপনি কি জানেন, এভাবে দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কতটা মূল্যবান সময় ব্যয় হচ্ছে?
সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, একজন সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গড়ে দিনে ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট সময় কাটান শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায়। বছরের হিসেবে এই সময়টা দাঁড়ায় প্রায় ৮৭০ ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রায় ৩৬ দিন—এক মাসেরও বেশি সময়! এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
জরিপে দেখা গেছে, ৯৭ শতাংশ তরুণ-তরুণী প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ প্রতিদিন তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় এবং ৫৩ শতাংশ প্রতিদিন এক থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টা, ডাটা রিপোর্টাল এবং ই-মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয়ের পরিমাণ দেশ, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সংস্কৃতির ওপরও নির্ভর করে। যেমন, ব্রাজিল ও নাইজেরিয়ার মানুষ দিনে গড়ে ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করেন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত জাপানে এই সময় মাত্র ৫০ মিনিটের মতো।
তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের (জেনজি) মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ। এই বয়সীদের গড় সময় দাঁড়ায় প্রায় ৩ ঘণ্টা/দিন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করেন, যা প্রায় ১০-২০ মিনিট অতিরিক্ত।
বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন, যা বিশ্বব্যাপী ৫.২৪ থেকে ৫.৪২ বিলিয়ন ব্যবহারকারী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। যোগাযোগ, তথ্য আহরণ এবং আত্মপ্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও, গবেষকরা সতর্ক করছেন যে এর অতিমাত্রায় ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যারা বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার অবস্থা খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতের বিষয়ে নেতিবাচক অনুভূতি, জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর বোধ এবং একাকীত্ব।
বিশেষ করে কিশোরদের মধ্যে বিষণ্নতা, নিদ্রাহীনতা এবং আত্মমূল্যহীনতা সংক্রান্ত সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অনেকাংশে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফল।