“এ দশক হবে রোবোটিক্স ও স্বচালিত গাড়ির যুগ”-ড্রাইভার ছাড়াই চলবে গাড়ি জানালেন হুয়াং

এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং-এর মতে, আমরা প্রযুক্তির এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে স্বয়ংচালিত গাড়ি এবং রোবোটিক্স আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘ভিভা টেক’ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই দশক হতে চলেছে স্বচালিত গাড়ি, রোবোটিক্স ও স্বচালিত মেশিনের দশক।” এনভিডিয়া, যা চালকবিহীন গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উভয়ই সরবরাহ করে, এই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে স্বচালিত গাড়ির অগ্রগতি:
বর্তমানে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বচালিত গাড়ির প্রচলন বেশি। গুগলের মালিকানাধীন ওয়েইমো কোম্পানি স্যান ফ্রান্সিসকো, ফিনিক্স এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে রোবোট্যাক্সি পরিষেবা সফলভাবে পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, চীনের বাইদু এবং পনি ডটএআই-এর মতো বেশ কয়েকটি চীনা কোম্পানিও এরই মধ্যে নিজস্ব রোবোট্যাক্সি পরিষেবা চালু করেছে, যা এই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
ইউরোপে ধীরগতি, কিন্তু আশার আলো:
তবে, ইউরোপে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রচলন এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। সিএনবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর প্রধান কারণ হলো স্বয়ংচালিত গাড়ি চালানোর জন্য স্পষ্ট আইন-কানুনের অভাব। এর ফলে এই প্রযুক্তির কোম্পানিগুলো সহজে তাদের পরিষেবা শুরু করতে পারছে না।
তবে, ইউরোপেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সম্প্রতি, যুক্তরাজ্যে ‘অটোনোমাস ভেহিকল অ্যাক্ট’ নামের একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির রাস্তায় স্বয়ংচালিত গাড়ি চালুর পথ প্রশস্ত করেছে। এটি ইউরোপে এই প্রযুক্তির প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উবার এবং ওয়েভের নতুন অংশীদারিত্ব:
এই অগ্রগতির অংশ হিসেবে, রাইড-শেয়ারিং জায়ান্ট উবার মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাজ্যের স্বয়ংচালিত গাড়ি প্রযুক্তি কোম্পানি ‘ওয়েভ’ (Wayve)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়েছে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে উবার ২০২৬ সালের বসন্তে যুক্তরাজ্যের রাস্তায় স্বয়ংচালিত গাড়ির পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু করবে বলে জানিয়েছে।
জেনসেন হুয়াং-এর এই মন্তব্য এবং বিভিন্ন দেশে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তির অগ্রগতি এটাই প্রমাণ করে যে, নিকট ভবিষ্যতে আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে, যেখানে রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি একটি প্রধান ভূমিকা পালন করবে।