বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ভরসা এসির রিমোর্ট, জেনেনিন কিভাবে করবেন ব্যবহার?

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে এসি (এয়ার কন্ডিশনার) এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেকের কাছেই এটি অপরিহার্য। কিন্তু মাস শেষে যখন হাতে আসে বিদ্যুৎ বিল, তখন সেই স্বস্তি নিমেষে উবে গিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে। তবে, হতাশ হওয়ার কিছু নেই! এসি ব্যবহারের কিছু সহজ কৌশল রপ্ত করতে পারলে আপনিও পারেন বিদ্যুৎ বিলের লাগাম টেনে ধরতে। এই কৌশলগুলো আপনার এসির রিমোটেই লুকিয়ে আছে, এবং কিছু সাধারণ অভ্যাসের পরিবর্তনই আপনাকে এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত সুফল।

রিমোটের ‘ইকো মোড’: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গোপন অস্ত্র
বেশিরভাগ আধুনিক এসিতেই একটি বিশেষ সুবিধা থাকে, যার নাম ‘ইকো মোড’। অনেকেই হয়তো এই মোড সম্পর্কে জানেন না, বা জানলেও এর গুরুত্ব দেন না। এই ‘ইকো মোড’-এ এসি চালালে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এটি এসির কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমিয়ে দেয় এবং ঘরকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা রাখে, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দারুণ কার্যকর। তাই, আজই আপনার এসির রিমোটটি হাতে নিয়ে ‘ইকো মোড’ বা তার সমার্থক কোনো সুইচ খুঁজে বের করুন এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

এসি ও ফ্যানের যুগলবন্দী: স্মার্ট কুলিং-এর রহস্য
ভাবছেন, এসি চালালে ফ্যান কেন? এটিই হলো স্মার্ট কুলিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। প্রথমে কিছু সময়ের জন্য এসি এবং বৈদ্যুতিক ফ্যান উভয়ই একসঙ্গে চালানো যেতে পারে। এতে ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত নেমে আসে। ঘর একবার ঠান্ডা হয়ে গেলে, আপনি ফ্যান বন্ধ করে দিতে পারেন। ফ্যান বন্ধ করলেও এসি কম কাজ করবে, কারণ বাতাস চলাচল ঘরের ঠান্ডা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন: ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
আপনার ঘরে যদি সরাসরি সূর্যের তাপ প্রবেশ করে, তবে এসির কার্যকারিতা বাড়িয়ে দিতে হয়, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচও বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার বাড়ি একতলা হয় এবং দিনের বেলায় সরাসরি রোদ পড়ে, তবে ঘর ঠান্ডা করতে কিছুটা বেশি সময় লাগবে। এই ক্ষেত্রে, আপনি প্রথমে ২২ বা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কিছুক্ষণ এসি চালাতে পারেন। ঘর কিছুটা ঠান্ডা হলে তাপমাত্রা বাড়িয়ে ২৪ বা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করুন। এই ছোট পরিবর্তনটি আপনার বিদ্যুৎ বিলে বড় ধরনের সাশ্রয় ঘটাতে পারে। সূর্যের সরাসরি তাপ এড়াতে মোটা পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করাও সহায়ক হতে পারে।

ফিল্টার পরিষ্কারের গুরুত্ব: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মৌলিক নিয়ম
অনেক সময় আমরা এসির যত্ন নেওয়ার বিষয়টি ভুলে যাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসিকে নিয়মিত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে এসি ফিল্টার। প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একবার এসি ফিল্টার পরিষ্কার করা উচিত। কারণ, ফিল্টারে ধুলো জমলে এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে, এসিকে ঘর ঠান্ডা করতে দীর্ঘ সময় ধরে চালাতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়। তাই, এসি ফিল্টার পরিষ্কার করা কেবল এসির কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্যই নয়, বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এই সহজ কৌশলগুলো মেনে চললে আপনি গরমে স্বস্তির পাশাপাশি পকেটেরও স্বস্তি উপভোগ করতে পারবেন। তাই, আজ থেকেই এই টিপসগুলো মেনে চলুন এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চিন্তা মুক্ত থাকুন!